• ফুটবল

" আই অ্যাম দ্যা নরমাল ওয়ান " - ইয়ুর্গেন ক্লপ

পোস্টটি ৪৪০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

তরুণ প্রজন্ম হয়তো দেখেছে গত ২-৩ বছরের লিভারপুলকে কিন্ত তারা কি জানে লিভারপুল দলের প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাস?একটা সময় ছিলো যখন প্রিমিয়ার লীগ হবে আর লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন হবে এমনটা ও ছিলো একসময়ের লিভারপুল। ৯০ এর পর সমর্থকেরা অন্তত একটা প্রিমিয়ার লীগের ট্রফি আশা করেছিলো, শেষবার লিভারপুলের লিজেন্ড জেরার্ড এর হাত ধরে আবার ও সেই সোনালি ট্রফির দেখা পাবে এটা ও হয়তো আশা করেছিলো অল রেড সমর্থকেরা। কিন্তু ট্রফির বিপরীতে ট্রফিলেস যে ৩০ বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে তা কে জানে?

ব্রেন্ডন রজার্স খুব কাছাকাছি লিভারপুলকে ট্রফির স্বাদ উপহার দিবে দিবে হয়ে ও সফল হয় নাই। এভারটনের মাঠে ১-১ গোলে ড্র হবার পর মৌসুমের মাঝপথে বরখাস্ত হলেন রজার্স। ২০১৫ সালে অক্টোবর মাসে 'অলরেড'দের নতুন কোচ হয়ে অ্যানফিল্ডে আসলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ।

ক্লপ তার অধীনে থাকা খেলোয়াড়দেরকে তার সব কৌশল রপ্ত করা এবং তার কৌশল রপ্ত করতে পারবে এমন ফুটবলারের সন্ধানে ছিলো এবং সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলো, " আই অ্যাম দ্যা নরমাল ওয়ান " তখনই বলার সাথে সাথে সব সাংবাদিকরা হেসে উঠলো।

ক্লপ দলের ম্যানেজার হিসেবে আসার পর অনেক খেলোয়াড় ও চলে গিয়েছিলো ক্লাব ছেড়ে। ৪-২-৩-১ এর ফরমেশন ছেড়ে অন্যরকম ৪-৩-৩ ফরমেশন এর আক্রমনাত্মক লিভারপুলকে দেখতে পেলো অল রেড সমর্থকেরা। ততদিনে হেন্ডারসন, মিলনার এবং ভাইলানদমেরা মাঝমাঠ শক্ত করেছে, শুধু দরকার ছিলো ভালো সেন্টারব্যাকের। ১৭-১৮ মৌসুমে আর্নল্ড ও রবার্টসন প্রিমিয়ার লিগে মোট অ্যাসিস্ট করেন ৪৯টি। সেন্টারব্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ক্লপ দলে ভিড়িয়ে আনেন ভার্জিন ভ্যান ডাইক। ভ্যান ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারনে লিভারপুল দল ভ্যান ডাইকের ১৪ ম্যাচের ৭ ম্যাচে গোল হজম করেনি একটি ও। ২০১৭-১৮ মৌসুমে সিটির কাছে এক ম্যাচ হেরে প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় স্থানে থাকতে বাধ্য করে। সালাহ, ফিরমিনহো এবং সাদিও মানেরা ফর্মে থাকলে ও লীগ ট্রফি আর ছুঁতে পারেনি৷

 

এরপর চ্যাম্পিয়ন লীগের ফাইনালের মঞ্চে লরিস এর পারফরম্যান্স লিভারপুলকে ডুবিয়েছিলো, লিভারপুলের গোলরক্ষক কোচ এবং ক্লপ রোমা থেকে লিভারপুলে উড়িয়ে আনলো অ্যালিসন বেকারকে। এরপরই দলে কিছুটা অদল বদল করেই বাজি মাত করলেন ক্লপ। চ্যাম্পিয়নস লীগের গ্রুপ পর্বে ২য় স্থান হয়ে নক-আউট পর্বে জায়গা করে নেয় লিভারপুল। অতঃপর, বায়ার্ন ও পোর্তোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় তারা। সেমিতে প্রতিপক্ষ ছিলো বার্সালোনা। ক্যাম্প নু'তে ৩-০ গোলে হেরে গেলেও নাটকীয়ভাবে এনফিল্ডে ৪-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিভারপুল। ফাইনালে প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম । অরিগি ও সালাহদের গোলে চ্যাম্পিয়নস লীগের ট্রফি ও জয় করলেন ক্লপ।

এই ধারবাহিকতায় ৩০ বছরের আক্ষেপ, হতাশা, কষ্ট শেষ করে সোনালি ট্রফির দেখা ও ক্লপের হাত ধরে পায় লিভারপুল। নিজেকে " আই অ্যাম দ্যা নরমাল ওয়ান" বললে ও নিজেকে নিয়ে গিয়েছে এখন অনন্য উচ্চতায়।