• ফুটবল

অপেক্ষার পাঁচটি বছর

পোস্টটি ৯৫৪ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

সময়টা ২০১৩, তখন ক্লাস ৫ কিংবা ক্লাস ৬ থেকে ভিনগ্রহের মেসির ম্যাজিকেল মেসির সেই জাদুকরী ফ্রি-কিক না দেখলে হয়তো তাকে কিংবা বার্সাকে কাউকেই আজীবনের জন্য সাপোর্ট করতাম না। এর আগেই ব্যাক্তিগতভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আমাকে মুগ্ধ করলে ও কেন জানি মেসির সেই ম্যাজিকেল ফ্রি-কিক কিংবা বা পায়ের তার সেই ম্যাজিকেল টাচ আমাকে শুধু মুগ্ধ, বিস্ময়, অবাক করতো। কিন্তু কেনো এভাবে সে কিংবা তার দল বার্সা আমাকে মুগ্ধ, বিস্ময় কিংবা আমার পছন্দ হতো তা আজ ২০২০ এসে ও আমার জানা নেই। অথচ এর আগে ইউরোপের সেরার মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বার্সেলোনা। এরপরে পাঁচ পাঁচটি বসন্ত চলে গেলে ও চ্যাম্পিয়নস লীগের মুকুট যেন ছিনিয়ে আনতে পারলো না বার্সা। তো, কাপ নিবে না, ম্যাচ জিতবে না, কিংবা হালি হালি গোল খাবে আমরা সাপোর্ট না করে দল বদলিয়ে অন্য ক্লাবকে সাপোর্ট করবো? না, হয়তো এই কাজটা আমার দ্বারা অসম্ভব।

সময়টা ২০১৫ সাল। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে মুখোমুখি বার্সেলোনা বনাম জুভেন্টাস। মিডফিল্ড থেকে মেসির পাস জর্ডি আলভার উদ্দেশ্যে, আলভা থেকে নেইমার গ্যাপ পেয়ে নেইমার খুঁজে নিলো ইনিয়েস্তাকে এবং ইনিয়েস্তার পাস ধরে বড় চুলের ইভান রাকিটিচের গোল। এরপর রাকিটিচের পাস ধরে মধ্য মাঠ থেকে মেসি বল নিয়ে ডি-বক্সের কাছাকাছি থেকেই নিলেন শট, গোলরক্ষক বুফন বল সামলাতে না পারলে ও ফিরতি বলে গোল করেন সুয়ারেজ। ম্যাচের শেষ সময়ে ডিফেন্সিভ মিড থেকে নেইমারের উদ্দেশ্য বল বাড়ান মেসি পরবর্তীতে নেইমার বদলি খেলোয়াড় পেড্রোর সাথে রসায়নে ম্যাচের শেষ গোল করেন এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বার্সা। আহা, ইনিয়েস্তা - জাভি, লম্বা চুলের রাকিটিচ, কিংবা সিনিয়র ম্যাশ্চেরানো, এটাকিং এ মেসি- নেইমার - সুয়ারেজ। কিন্তু বর্তমান দলটার ক'জন খেলোয়াড় বার্সেলোনাকে এগিয়ে নিতে পারবে? যেখানে দলের ৭-৮ জন খেলোয়াড় এর বয়সই ৩০ এর বেশী।

এখন সেই বার্সা পাঁচ পাঁচটি বসন্ত চলে গেলে ও আমাদেরকে দিতে পারে নাই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ট্রফিখানা। মাদ্রিদ কিংবা লিভারপুল কিংবা আমি যদি ২০০৯ এর ট্রেবল জয়ী ইন্টার - মিলানের কথা বলি, তাদের ভক্ত - সমর্থেকেরা ও তাদের প্রিয় ক্লাবের পাশে আজীবনের জন্য ছিলো। কেন আমরা কাতালান সমর্থকরা কি তা পারবো না?

হ্যাঁ, আমরা ও পারবো আমাদের ক্লাবের পাশে থাকতে। ফুটবলই আমাদের কাঁদাবে আর এই ফুটবলই আমাদেরকে হাঁসাবে। ক্লাবের পাশে যদি আমরা না থাকি তাহলে কে থাকবে?

বার্সেলোনা ক্লাব ১৯৯১/৯২ আসর, ২০০৫/২০০৬ আসর, ২০০৮/২০০৯ আসর, ২০১০/১১ আসর, ২০১৪/১৫ আসরে ইউরোপ সেরার মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের চ্যাম্পিয়ন হয় বার্সেলোনা। শিরোনামে দেয়া অপেক্ষার পাঁচ বছরে যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ টানা ৩ বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করেছে। সেখানে আমাদের আক্ষেপ কিংবা অপেক্ষা দুটিই থাকবে।