• ফুটবল

মাদ্রিদ ফ্যান কিন্তু বাবার ইচ্ছা খেলে গেলেন বার্সেলোনার জার্সিতে

পোস্টটি ৪২৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

inbound3185322531109938508ফুটবল নামক শিল্পটির সর্বদা হাস্যোজ্বল একটি সুপরিচিত চেহারা ইনিয়েস্তা!

ছিলো মাদ্রিদ ফ্যান কিন্তু বাবার ইচ্ছা খেলে গেলেন বার্সেলোনার জার্সিতে! শুধুই খেলেছেন এইটা বললে এক প্রকার ভুলই হবে ব্লাউগ্রানার জার্সিতে পায়ের জাদুতে যেমন নাচিয়েছেন তেমনি রাইভাল মাদ্রিদকে মাঝমাঠে অসংখ্য বার আউপ্লে করেছেন পেয়েছেন স্ট্যানডিং ওভেয়েশন! 

 

শারীরিক গড়নে ছিল একটু সমস্যা,দশটা ছেলের মতো সমানভাবে ইনিয়েস্তা কখনোই শারীরিকভাবে অতটা ফিট ছিলেন না। আসলে ফুটবলে তার কখনো শক্তি প্রয়োগ করার প্রয়োজনই বোধহয় হয়নি। ইনিয়েস্তা তার ইন্ডিভিজ্যুয়াল ব্রিলিয়েন্সি, টেকনিক্যালি দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার মহত্ত প্রয়োগ করেই ম্যাজিক দেখিয়েছেন!

 

২০১০ বিশ্বকাপের কথা আসলেই সর্বপ্রথমে চোখে ভেসে আসে ফাইনালে ইনিয়েস্তার সেই ভলিতে করা গোলের কথা যেই গোল স্পেনকে দিয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ!  তবে ইনিয়েস্তার ক্যারিয়ারে  ২০১০ সিজনের শুরুটাই ছিল  হতাশায় জর্জরিত একটা সিজন!

২০১০ বিশ্বকাপের ঠিক আগের কয়েক মাস ইনিয়েস্তা কাটিয়েছিলেন হতাশায়! ইঞ্জুরি যেন কোনভাবেই পিছু ছাড়ছিল না তাকে একের পর এক ইঞ্জুরি! বিশ্বকাপের শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে ইনিয়স্তাকে যখন স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল সবার চোখের কোনায় পানি নিয়ে কড়তালি দিচ্ছিল কেউ তখন কল্পনাও করেনি ইনিয়েস্তা বিশ্বকাপ আর খেলতে পারবেন! ঐ ইনজুরির আগেই ইনিয়েস্তা আরও কয়েক বার বাজে ইঞ্জুরিতে পড়েছিলেন সিজনের শেষের দিকে খেলেছিলেন মাত্র এক ম্যাচ তাও সেটা মাত্র চার মিনিটের জন্য। একের একের পর এক  ইনজুরিতে জর্জরিত হয়ে কোন রকম শেষ করলেন সেই সিজন খেলার জন্য পাননি পর্যাপ্ত  সময়। স্বাভাবিক ভাবেই কোন কোচই চাইবেন না এমন ইঞ্জুরি থেকে ফিরে আসা কোন প্লেয়ারকে দলে নিতে আর তখনকার স্প্যানিশ টিমও ছিল তারকায় ভর্তি প্রতিটা পজিশনেই তাদের ওয়ার্ল্ডক্লাস প্লেয়ার একে তো ইঞ্জুরি তার উপর যখন সেই পজিশনের ব্যাক আপে থাকে তখম  বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এরকম খেলোয়াড়ের সুযোগ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়! কিন্তু কোচ ভিনসেন্ট ডেল বস্ক ছিলেন তার ডিসিশনে অনড় সবকিছু উপেক্ষা করেই তিনি তার প্রিয় শিষ্যকে ডাকলেন ইনিয়েস্তাও তার সঠিক প্রতিদান প্রতিটি ম্যাচেই দিয়েছিলেন! 

ভিসেন্তে দেল বক্স ইনিয়েস্তাকে ফলস নাইন পজিশনে বিশ্বকাপে ব্যবহার করেছেন কিছু ম্যাচে আবার কিছু ম্যাচে তিনি ছিলেন নম্বর ১০ এর ভূমিকায়! শুধু ডাচদের সাথে সেই গোল নয় নক আউটের প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিটি গোলেই ইনিয়েস্তা ছিল সম্পৃক্ত! ফলস নাইনে তাকে খেলিয়ে দেল বক্স যে এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন সেটা স্পেনের জন্য যেমন আর্শীবাদ হয়ে এসেছিল! ইনিয়েস্তাও ভিন্ন পজিশনে খেলে নিজেকে প্রমান করেছিলেন মিডফিল্ডার থেকে একদম ভিন্ন এক পজিশনেও ইনিয়েস্তা সফল! শুধু সফলই বলা যাবে না তার এই যথাযথ পজিশন পরিবর্তনের কারণে স্পেন সেবার পেয়েছিলো বিশ্বকাপ শিরোপা! শুধু মিডফিল্ডেই প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না দলের প্রয়োজনে সে যেকোন ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে! 

রাইকার্ড যখন বার্সার কোচ ছিলে তার গেম প্ল্যান অনুযায়ী ইনিয়েস্তা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পজিশনে খেলতেন। ইনিয়েস্তার দায়িত্ব তখন মধ্যমাঠে সীমাবদ্ধ থাকায় তিনি পুরো মিডফিল্ডটাই নিজে এক প্রকার একাই কন্ট্রোল করতেন! জাবির কাজ ছিল এট্যাকিং হেল্প করা আর ইয়া ইয়া টোরের কাজ ছিল ডিফেন্সে হেল্প করা!  সেখানে তাদের মাঝে ইনিয়েস্তা মধ্যস্তকারী হয়েই বিল্ড আপে সাহায্য করতেন! বাকিরা ডিফেন্সে আর এট্যাকে হেল্পি হেন্ড হিসেবে থাকলেও ইনিয়েস্তা একক প্রচেষ্টায় করে নিভৃতে থেকেই করে যেতেন পুরো মিডফিল্ড কন্ট্রোলের কাজ!

রাইকার্ড কোচ থেকে সড়ে গেলে পেপ গার্দিওলা যখন বার্সেলোনার কোচ হয়ে আসেন এরপর ইনিয়েস্তার পজিশনে আবারও খানিকটা পরিবর্তন হয়। তাকে সেন্টাল মিডফিল্ডার থেকে সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বনে গিয়ে জাভির সাথে তৈরি করেন একটা ডেডলি ডুয়ো! ইনিয়েস্তার কাজ ছিল সেখানে এট্যাকে হেল্প করা! বুস্কেটস ডিফেন্সের সাইডটা দেখলে ইনিয়েস্তা একটুও ফ্রিডম পায় এবং পরর্বতীতে সেই পজিশনও ইনিয়েস্তা সফল হন! ইনিয়েস্তার নেতৃত্বে সেই স্বর্নযুগের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা বার্সেলোনাকে বিপক্ষে কোন প্রতিপক্ষই দাড়াতেই পারেনি! ইনিয়েস্তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষ যে একের পর এক রেজাল্ট নির্ভর ফুটবলের ছক এঁকেছিলে সেই ছক ইনিয়েস্তাকে কোনভাবেই আউটক্লাস করতে পারেনি! এল ক্লাসিকেতে গোল, স্ট্যামফোর্ডের সেই গোল সহ শত শত মাস্টারক্লাস পার্ফম্যান্স ইনিয়েস্তা উপহার দিয়েছিল সেই পজিশনে খেলে! ইউয়েফা বেস্ট, ফিফা প্রো ইলেভেন, ইউয়েফা বেস্ট ইলেভেন সব জায়গায় ইনিয়েস্তা জায়গা করে নিয়েছিলেন!

লুইস এনরিকে যখন বার্সেলোনার কোচ হয়ে আসেন  সেখানেও ইনিয়েস্তার কাধে তুলে দেওয়া হয়েছিল নতুন এক দায়িত্ব। তখন মর্ডান ফুটবল ভিন্ন রুপে রুপ নিলে প্রতিটি কোচই যখন এটাকিং মিড আর দলে না নিয়ে ৪-৩-৩ তে প্রিফার করছিল তখনই  ইনিয়েস্তাকে দলের পজিশনে ফিরে সেই যেতে হয়েছিলো রাইকার্ডের গড়ে দেওয়া সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পজিশনে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড রোলে মাঝখানে সার্জিও বুসকেটস থাকার কারণে ইনিয়েস্তার নতুন কাজ ছিল লেফট সাইড দিয়ে আলবা ও নেইমারের সাথে একটা অফ দা বলের মুভমেন্টে একটা কম্বিনেশন তৈরি করে আক্রমণে সহায়তা করা এবং শারীরিক ভাবে অতটা শক্তিশালী না হলেও দলের প্রয়োজনে ফল ব্যাক করে আলবার অবস্থানে এসে রক্ষণ পাহারা দিতেন, যেকোন কাউনটারেই তিনি ফিরে যেতেন ডিফেন্সিভ হাফে!

এনরিকের বার্সেলোনায় তার দায়িত্ব অনেকটা ডিফাকাল্ট হওয়ায় ইনিয়েস্তা প্রথমে একটু ভুগেছিলেন তবে ইনিয়েস্তা দমে যাননি তিনি আবারও প্রমান করেছিলেন নিজেকে!

 

 

সর্বশেষ তার ক্যারিয়ারের শেষ সিজনে যখন ভালভার্দে নতুন করে কোচ হিসেবে আসেন আবার  ইনিয়েস্তার কাধে এসে পড়ে নতুন দায়িত্ব এবার খানিকটা ভিন্নরকম পজিশনে ভালভার্দে তার প্র্যাগমেটিক ফুটবলে ইনিয়েস্তাকে কয়েক ম্যাচেই ব্যবহার করেন লেফট উইং হিসেবে নেইমারের চলে যাওয়া তার মধ্য ডেম্বেলের ইঞ্জুরি সবমিলিয়ে বার্সা যখন লেফট সাইড নিয়ে ধুকতেছিল সেই ক্রান্তিকালে অন্ধকার হাতে নিয়ে লেফট সাইডে আসেন ইনিয়েস্তা! সেখানেও তিনি দলের প্রয়োজনে নিজের পজিশন স্যাক্রিফাইস করে খেলে সফল হন! সিজন শেষে জিতেছিলেন ডাবল!

 

তার ক্লাব ক্যারিয়ার কিংনা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দুইজায়গায়ই ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষে ইনিয়েস্তাও প্রমান করেছেন তার ভার্সেটালেটি সব পজিশনেই তিনি ছিলেন সমানভাবে সফল। 

 

শুভ জন্মদিন ডন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা! 

আজকে থেকে ১০০ বছর পরেও যদি কেউ বার্সালোনার "ব" শব্দটা উচ্চারণ করে তার সাথে সমস্বরে ইনিয়েস্তার "ই" টা উচ্চারণ করতে হবে!