• অন্যান্য

অতিমারীকালে এক ফুটবল পাগল

পোস্টটি ৬৬৯ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

[IMG_20140125_152044[ব্রুশিয়া ডর্টমুন্ডের একনিষ্ঠ সমর্থক, জার্মানির কোলন নিবাসী পদার্থবিদ ইয়োহানেস ডেকার্স আমাদেরকে জানিয়েছেন এই অতিমারীকালে তাঁর ফুটবলের প্রতি ভালবাসার কথা।]

 

২২জন খেলোয়াড় একটা বলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, এই সোজা খেলার জন্য ভালবাসার কোন যুক্তি নেই আর ব্যাখ্যা করাও কঠিন। এ এমন এক ভালবাসা যা সারা পৃথিবীর কয়েক লক্ষ মানুষ একরকমভাবে অনুভব করে। তাদের দল ও ক্লাবের প্রতি ভালবাসায় অবসর সময়ের একটা বড় অংশ, এমনকি বড় অংকের টাকাও খরচ করে তারা। এই অতিমারীকালের যাবতীয় বাধা, ফাঁকা স্টেডিয়ামের সেই বিশেষ পরিবেশের অভাব আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে এগুলো আমার জীবনের কতখানি। 

 

যদিও আমার মা-বাবার গরীব মানুষের এই খেলায় তেমন একটা আগ্রহ ছিলনা, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমি কোন ক্লাবের হয়ে খেলতে চাইতাম। হয়তো ১৯৯০ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ে অনুপ্রাণিত হয়েই। শিগগীরই আমি আবিষ্কার করলাম ক্লাব ফুটবল আর জার্মান বুন্ডেশলিগার প্রতি আমার আগ্রহ। বেছে নিলাম আমার মন -প্রাণের ভালবাসার ক্লাবকে, যখন ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফস্কে যায় সামান্য কারণে। এতবড় একটা হতাশার পরও ক্লাব আর দলের প্রতি ভক্তদের আবেগ আর ভালবাসা দেখে চমৎকার লাগল। তাই আমিও ভক্ত হয়ে গেলাম, ক্লাবের সবকিছু আমাকে জানতে হবে, ওদের মত রঙে আমাকে কাপড় পরতে হবে। আমি ঠিক করলাম ডর্টমুন্ড স্টেডিয়ামের বিখ্যাত হলুদ দেয়ালের একটা সিজন টিকেট কিনব, যেখানে একসাথে হলুদ-কালো কাপড় পরে ২৫ হাজার ভক্ত গর্জন করে। এই প্রাণশক্তি, এই আবেগ, সমর্থনের এই তীব্রতা আর সৃজনশীলতা- আমাকে আজও অবাক করে। এমনকি তাদের প্রথম খেলার দেখার পরে কুড়ি বছর কেটে যাবার পরও। 

 

আজ অতিমারী আমাদের আটকে রেখেছে, কাছাকাছি হওয়া অসম্ভব করে দিয়েছে, তারপরও আমি আশা রাখি, স্বপ্ন দেখি এখানে একদিন ফিরে আসার। আশা রাখি পরিচিত-অপরিচিত ভক্তদের সাথে দেখা হবার, আমার ক্লাবকে মন-প্রাণ দিয়ে সমর্থন করার। 

 

অতিমারী আমাদের বাধ্য করেছে একে অপরের থেকে দূরে থাকতে, কিন্তু আবেগকে কেড়ে নিতে পারেনি!

 

 

অনুবাদক: অদিতি কবির খেয়া