• ফুটবল

রুবেন আমোরিম কি নেক্সট 'মরিনহো' হবেন? নাকি নিজের নতুন ইতিহাস লিখবেন?

পোস্টটি ২২৭ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

 

২০২০ সালের কোভিড টাইমে আর্থিক মন্দায় থাকা স্পোটিং প্রায় ১০ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজ পে করে টপ টায়ার ফুটবলে মাত্র ৩ মাস অভিজ্ঞ একজনকে কোচ হিসেবে নিয়ে আসেন। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেই আনকোড়া পর্তুগিজ ভদ্রলোক পোর্তো এবং বেনফিকার ডমিনেশন ভেঙে প্রায় ২০ বছর পর স্পোর্টিংকে জেতান পর্তুগিজ লিগ শিরোপা!

 

বলছিলাম ৩৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ রুবেন আমোরিমের কথা। যাকে মিডিয়া 'নতুন/বেবি মরিনহো' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবনে মিডফিল্ডে খেলা আমোরিমের অধিকাংশ সময় কেটেছে বেনফিকাতে।

mw-1024 (1)

 

বুট জোড়া তুলে রাখার পর লিসবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'হাই পারফর্মিং ফুটবল কোচিং কোর্স' কমপ্লিট করে অল্প সময়ের জন্যে তৃতীয় বিভাগের একটি দলের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সে দায়িত্ব ছেড়ে দেন আমোরিম। তখন আমোরিমকে রিজার্ভ টিমের কোচের অফার দেয় বেনফিকা। বেনফিকার অফার নাকচ করে স্পোর্টিং ব্রাগার বি দলে যোগ দেন তিনি।

126188_800x800

 

তার ৪ মাস পর মূল দলের কোচ রিকার্ডো সা পিন্টোকে বরখাস্ত করে বি টিমের দায়িত্বে থাকা আমোরিমকে কোচ বানানো হয়। ৩ মাসের সেই স্পেলে পর্তুগালের বিগ থ্রি ক্লাবকে ৫ দেখায় ৫ বার হারান। ব্রাগাকে জেতান পর্তুগিজ লীগ কাপ । যেটি ছিলো ব্রাগার ৪ বছরের মধ্যে প্রথম শিরোপা। ডোমেস্টিক সব ম্যাচে আনবিটেন ছিলো তার দল। সেখানে মোট ১৩ ম্যাচে ১০ জয়, ২ হার এবং ১ ড্রয়ে তার ব্রাগা অধ্যায় শেষ হয়। 

img_920x518$2020_01_25_22_59_24_1655087

 

পর্তুগালে কেনো তিনি সবার থেকে আলাদা?

 

- তার এই আর্লি সাকসেসের পেছনে সবাই ট্যাকটিক্যাল দিকটা বেশি গ্লোরিফাই করবে। তবে আমোরিমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিলো - তার পার্সোনালিটি, লিডারশিপ ক্যারেকটার, ইন্টারেকশন এবং ম্যান ম্যানেজমেন্ট এবিলিটি। প্লেয়ারদের বেশ সহজে ইন্টারেক্ট করে কনভিন্স করতে পারতেন তিনি। এমনকি ব্রাগাতে থাকাকালীন ড্রেসিংরুমে সবচেয়ে বড় জোকার ছিলেন খোদ কোচ আমোরিমই! যার কারণে ট্যাকটিক্যাল ইমপ্লিমেন্টেশন খুব সহজ কাজ হয়ে যায়। 

 

স্পোর্টিংয়ের দায়িত্ব নেবার পরের মৌসুমে পোর্তো এবং বেনফিকার ডমিনেশন ভেঙে প্রায় ২০ বছর পর লীগ জিতেন। সে মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বারের পর্তুগিজ লীগ কাপ জিতেন আমোরিম। পরের মৌসুমে পর্তুগিজ লীগ কাপ জয়ের হ্যাটট্রিক করেন এবং পর্তুগিজ সুপার কাপও জয় করেন। 4e7c029f-be10-4f9c-bfd2-5351d6e68e9f_sporting-champions-amorim

 

ট্যাকটিক্যাল ওভারভিউ:

 

রুবেন আমোরিম মূলত টিপিক্যাল থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। ট্যাকটিক্যাল ফ্লেক্সিবিলিটির কারণে কখনো ফোর ম্যান ডিফেন্স নিয়ে খেলতে নামলেও একজন কনভার্টেড ফুলব্যাককে দুইজন সেন্টারব্যাকের সাথে ইনক্লুড করে তার বিল্ডআপ প্লেয়িং শেপ তৈরি করেন। 

ফর্মেশন হিসেবে তিনি ৩-৪-৩ বেশি ইউজ করেন।যেটা অফ দ্যা বল ৫-২-৩ এ রূপ ধারণ করে।

f729eed06fd59f1a79e6cd4545bbc185d839d8ec_hq

 

আমোরিমের এই সিস্টেমে মিডে ডাবল পিভট ইউজ করে থাকেন। তাদের মধ্যে একজন একটু ডিপে নেমে এসে ফার্স্ট বিল্ড আপে অংশ নেন। আরেকজন একটু ফ্রি রোল প্লে করে ফ্রন্ট লাইনের সাথে এটাচ থাকেন। এখানে ২জন পিভটের ওয়ার্করেট খুব ইম্পর্ট্যান্ট আর স্পেস রিটেনশন ইস্যুর কারণে দুইজনের মধ্যে একটা লিমিটেশন থাকে।1_0bj9pJZJCWCFFRXUkE4X2w

 

প্রশ্ন: যদি প্রতিপক্ষ ব্যাকলাইনকে প্রচুর প্রেস করে তখন কি হবে?

 

- অপোনেন্ট যখন স্পোর্টিং এর ব্যাক লাইনকে সেন্ট্রালি প্রেশারে রাখে তখন তাদের থ্রি ম্যান ব্যাক লাইন সেন্ট্রালি খানিকটা উপরে চলে যায়। তখন গোলকিপারের বল প্লেয়িং এবিলিটিকে বিল্ড আপে কাজে লাগানো হয়। 

একজন সেন্টারব্যাক উপরে যাওয়াতে মিডফিল্ডে ২ জন পিভটে থাকা প্লেয়ার আরেকটু ওয়াইড সাইডে চলে যায়। তখন ব্যাক লাইনের সেন্টারব্যাকদের সেন্ট্রালি বল প্রগেসে সুবিধা হয়। মিডফিল্ডেও একটা এক্সট্রা পাসিং অপশন পাওয়া যায়।

tactics1

আবার তখন ২ জন উইংব্যাক নিচে নেমে আসায় মিডফিল্ড এবং ব্যাক লাইনের সাথে একটা কানেকশন তৈরি হয় যাতে টাইট সিচুয়েশনেও সেন্টারব্যাকগণ বল হয় সামনে মিডে পাস দিতে পারবে নাহয় উইং ব্যাকে বল দিতে পারবে।

 

আউট অফ পজিশন, আমোরিমের স্পোর্টিং ইউরোপের মোস্ট ইন্টেন্স টিম গুলোর একটি। 

ফ্রন্ট লাইনে যে তিনজন থাকে তাদের মধ্যে একটা ট্রায়াঙ্গেল শেপ মেইনটেন করা হয় জেনারেলি। এতে প্রতিপক্ষকে সেন্ট্রালি প্রচুর প্রেস করা যায়। এদের পেছনে থাকা দুইজন পিবটের ২ জন আপওয়ার্ড সাইডে শিফট করে লং পাসিং প্রতিপক্ষের মিডে বিল্ড আপের সময় প্রচুর প্রেশার দেয়। আর ওয়াইড এরিয়াতে দুই সাইডে ২জন উইংব্যাকের ওভারল্যাপিং এবং বল রিকোভারি এট্রিবিউট অপোনেন্টের ওয়াইড সাইডের অপশন গুলাও ব্লক করে দেয়। বলা বাহুল্য, তখন ব্যাক লাইনের তিনজন ন্যারো স্পেস টু ওয়াইডলি ইজিলি কনভার্ট করে ডিফেন্ড করতে পারে।tactics2

 

আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে যেহেতু তার মেইন প্রেফারেন্স ৩-৪-৩ কিংবা ৫-২-৩ এই ক্ষেত্রে উইং ব্যাক ওভারল্যাপিং এর পাশাপাশি ওয়াইড ট্র্যাপে ফেলতে পারে। কিভাবে? বিষয়টা একটু সহজভাবে বুঝাই। অফ দ্যা বল টিম যখন ৫-২-৩ এর শেপ তৈরি করে আর সামনে প্রাথমিক অবস্থায় ২ জন পিবট এবং ৩ জন ফ্রন্ট প্লেয়ার সেন্ট্রালি প্রেস করে তখন প্রতিপক্ষ ওয়াইড সাইডের চ্যানেলে বল প্লে করতে বাধ্য হয়। এই ক্ষেত্রে অনেক সময় ৫ জনের ডিফেন্স লাইন থেকে একজন উইং ব্যাক সামনে গিয়ে ওই ওয়াইফ সাইডে থাকা বল হোল্ডার কে চার্জ করে। ব্যাকলাইনের বাকি ৪ জনকে নিয়ে ডিফেন্স লাইন স্ট্যাবল থাকে। ২ জন পিবট তখন ডিপ সাইডে নেমে এসে সাইড + পজিশন ওয়াইজ পাসিং চ্যানেল গুলো বন্ধ করে দেয়। 

 

এই সময়ে ফ্রন্ট লাইনে থাকা ৩ জনের মধ্যে মেইন ফরোয়ার্ডের পেছনে থাকা একজন মিডফিল্ড টু ফ্রন্ট লাইনের এরিয়া গুলো কভার করে। এতে মিডে এক্সট্রা প্লেয়ারের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের বল মুভ ফরোয়ার্ডের অপশন অফ করে দেয়। সামনে থাকা দুইজন ফ্রন্ট লাইনের দুইজন ব্যাকপাসের অপশন আরো টাইট সিচুয়েশনে ফেলে দেয়। এতে বল লুজ করে কাউন্টার এটাকের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

tactics3

 

 

স্পোর্টিংয়ে বর্তমান অবস্থা:

 

কিছু ভাইটাল প্লেয়ার ছেড়ে দেওয়ার জন্যে এবং স্কোয়াড সাইজ ছোট হওয়াতে গত মৌসুমে টপ থ্রির বাহিরে ছিলো স্পোর্টিং। তবে এবার আবারো ঘুরে দাঁড়ায় আমোরিমের দল। এই মৌসুমে স্পোর্টিং এখন পর্যন্ত লীগ টেবিলের ১ নম্বর পজিশনে আছে। 

টপ টায়ার ফুটবলে ৫ মৌসুম কোচিং করানো রুবেন আমোরিমের লীগ পজিশনসমূহ - ৪র্থ, ১ম, ২য়, ৪র্থ, ১ম*। 

 

মরিনহোর সাথে তুলনার ব্যাপারে আমোরিম প্রায়ই বলেছেন - "পর্তুগাল এবং ইউরোপে মরিনহো একজনই। আমি তার মতো কখনো হতে পারবো না, অবশ্যই সে আমাদের জন্যে একটা রোল মডেল"।

 

বিভিন্ন সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম, চেলসি সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাবের সাথে কোচ হবার রিউমার ছিলো তার। আমোরিমের উচিত ইংল্যান্ডের টপ টায়ার ফুটবলে কোনো দলের দায়িত্ব নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে আরেকটি নতুন স্টেজে নিয়ে যাওয়া।