• ফুটবল

দ্যা ক্লাস অব ৯২- গ্লোরি গ্লোরি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

পোস্টটি ২৯৪৩ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

নিরপেক্ষ চোখে যদি তাকিয়ে দেখা হয় এবং প্রশ্ন করে হয় আমার দেখা সেরা ম্যানেজার কে? স্যার আলেক্স ফার্গুসন এর নাম নিতে একবার চোখের পলক ফেলার ও সময় আসবে না। ফার্গুসন এমন এক ম্যানেজার যার হাতে অতি সাধারন দলকে দেখলে মনে ভয় জাগবে। কিন্তু একবার ভাবুন তো এরকম এক মানুষের হাতে এমন এক দল খেলোয়াড় যাদের জেনারেশান এর সেরা তারাই? এ আর এমন কী?ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা ওয়েইন রুনিদের কাচা অবস্থায় দলে ভিড়িয়ে মহাতারকা করে তুলেছেন যিনি তার সঙ্গে এমন ব্যাপার ভাবনা তো পানিভাত এর চেয়ে সোজা। কৃতিত্ব এজন্যে ফার্গুসন কম পান না। কিন্তু এদের যখন তিনি কিনে আনেন তখন তার হাতে বাজেট চলে এসেছে। কখনো এরিক ক্যান্টোনার মত দুই একটা বিজনেস এ তুখোড় ব্যাবসা আর নিগোসিয়েশান ও দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু যে মেরুদন্ডের উপরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর আধুনিক গ্রেটনেস সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তা ফার্গুসন কিনে আনেন নি। এনেছিলেন একাডেমি থেকে অর্ডার দিয়ে গড়ে পিটে নিয়ে। এনেছিলেন একজন খেলোয়াড় নয়। একটা আস্ত জেনারেশান। ইউনাইটেড এর ইতিহাসের সেরা একদল তরুন।



১৯৯৯ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর ফাইনাল। সামনে জার্মানীর দূর্ধর্ষ বায়ার্ন মিউনিখ। লোথার ম্যাথিউস চীনের প্রাচীর এর মত ডীফেন্স পাহারা দিচ্ছেন। তার পেছনে হাসিমুখে বসে দাত খোচাচ্ছেন অলিভার কান। আক্রমন ভাগ যাই হোক বায়ার্ন এর ডিফেন্স এর লক খোলা প্রায় অসাধ্য। আর বায়ার্ন এর আক্রমনভাগে তখন ইন্ডিভিজ্যুয়াল ট্যালেন্ট হয়তো কম। উতসাহ উদ্দীপনা আর সাহসে তারা কম কোথায়? এর মধ্যে রনি জনসেন এর ছোট ভুলে জিকলার এর ভয়াবহ এক শট পোস্টে লাগল। ম্যাচের বয়স ৫ মিনিট ও পার হয় নি তখন। এর পরের এটাকেই গোল। বায়ার্ন এর সম্মিলিত আক্রমনের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে মারিও বাসলার ৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দিলেন বায়ার্ন কে। কোথায় গোল শোধ করতে উঠবে না তো কী। ইউনাইটেড যেন গর্তে লুকাতে চাইল ম্যাচ জুড়ে। ভয়ে জড় হয়ে গেল। কিন্তু এক সময় তাদের যেন হঠাৎ মনে পড়ে গেল তারা এমন এক জেনারেশান এর মধ্য গগনে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে এইভাবে হেরে যাওয়াটা মানায় না।এর মাঝে ৯০ এর কাটা ছুয়েছে মিনিট। বিখ্যাত ফার্গি টাইম শুরু হয়ে গেছে। হঠাত আক্রমন কাকে বলে কত প্রকার কী কী হাতে কলমে মনে পড়ে গেল সবার। ঢেউ উঠল গতির। একটা কঠিন আক্রমন কর্নার নিয়ে বাচালেন ম্যাথিউস। কর্নার থেকে গরপড়োতা এক বল ভেসে এল।কান এর কোনমতে করা ক্লিয়ারটাই ঘুরে এল শেরিঙ্গহ্যাম এর পায়ে। একটু আগে বদলি নামা শেরিঙ্গহ্যাম কান এর চোখের সামনে জটলার সুযোগ নিয়ে নেট এর কনায় প্লেস করে দিলেন বল। ক্যাম্প ন্যু জুড়ে তখন এক্সট্রা টাইমের অপেক্ষা। এর মাঝে আবারো কর্নার পেল ইউনাইটেড। এবারের কর্নারটা হলো প্রায় স্বর্গীয়। শেরিঙ্গহ্যাম এর জায়গায় এবার আরেক সাব। ওলে গানার সোলজেকার। কর্নারটা তার মাথা ছুয়ে কান কে প্রায় হতভম্ব করে দিয়ে জালে চলে গেল।

 

এরকম অবিশ্বাস্য সব মোমেন্ট থেকে ম্যাচ বের করে আনা প্রায় অভ্যাস ছিল ওই ইউনাইটেড দলের। আর বাকী গুলো? সেগুলা তারা এমনিতেই জিতত। ৯২ সালে প্রিমিয়ার লীগ চালু হবার পরে ১৩ বার শিরোপা ঘরে নিয়ে গেছে ইউনাইটেড। এর মাঝে প্রতিবার ই দলে সেই ক্লাস অব ৯২ এর কেউ না কেউ ছিলেন। কখনো দলের মেইন স্টার, কখনো আড়ালে থাকা ক্রিয়েটর। কখনো নেতা, কখনো এনফোর্সার কখনো ড্রেসিং রূমে কোচ এর পাশে। কাদের কথা বলছি? শুনুন তাহলে ইউনাইটেড এর একদল এর কথা।

 


The wise:
দ্যা ওয়াইজ বলা যায় গ্যারি নেভিল কে। ইউনাইটেড আর ইংল্যান্ড এর ইতিহাস এর সেরা রাইটব্যাক। দূর্দান্ত নেতা। রক্ষণ আক্রমনে সমান সচল। নিজের প্রাইমে ছিলেন ভয়াবহ গতিশীল।এসব অনেকের থাকে। কিন্তু ম্যাচ রিডিং এর ক্ষমতা আর হার না মানার এটিচিউড নেভিল ব্রাদার্স এর বড় জনের মত আর খুব কম ইংলীশ ডিফেন্ডার এর মাঝেই দেখা গেছে। ইউনাইটেড এর হয়ে গুনে পাক্কা ৪০০ ম্যাচ খেলেছেন। অধিনায়কত্ব করেছেন তিন মৌসুম। ইংল্যান্ড এর হয়ে ৮৫ টা ক্যাপ পাওয়া ওয়াইড ডিফেন্ডার আর কেউ কিন্তু নেই।পরে কাজ করেছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দল এর সহকারী আর ভ্যালেন্সিয়ার মূল ম্যানেজার হিসাবে। এদিকে সফল হন নি তেমন। তবে টিভি পন্ডিত হিসাবে খেলোয়াড়ি জীবনের মতই কঠিন আর অতুলনীয় হয়ে আছেন সবার কাছে।

 

The Determined:
নেভিল পরিবারের মধ্যে নেতৃত্বগুন আর কঠিন চরিত্র ব্যাপারটা মনে হয় জেনেটিক। কারন গ্যারির ছোটভাই ফিল নেভিল এর মধ্যেও ভাই এর সব গুন ই ছিল। সাথে এক্সট্রা ছিল ভার্সেটাইলিটি।ডিফেন্সের ডানে বামে তো বটেই চাইলে মাঝমাঠেও বেশ মানিয়ে যেতেন। ম্যাচ রিডিং এ গ্যারির চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও প্রতিভাতে তেমন একটা নয়। যদিও ফিল নেভিল গ্যারিকে ছাপিয়ে যেতে পারেন নি কখনোই। কিন্তু এক ব্যাপারে তিনি গ্যারির উপরে তো বটেই। সেটা হচ্ছে গ্যারি শুধু ইউনাইটেড ই না, এভারটন ের ও আইকনিক প্লেয়ার। দুই ক্লাব এর হয়েই খেলেছেন আড়াইশ এর বেশি ম্যাচ। এভারটন এর অধিনায়কত্ব করেছেন চার মৌসুম। জাতীয় দলের জার্সিও ৫৯ বার উঠেছে গায়ে। ফিল এর ও কোচিং এর দিকে ঝোক আছে, ইউনাইটেড এর ফার্স্ট টিম কোচ ছাড়াও ভাই এর পাশে ভ্যালেন্সিয়ার সহকারী কোচ এর কাজ করেছেন। এবং জানিয়েছেন সুযোগ হলে একদিন দাড়াতে পারেন ডাগ আউটে। ইউনাইটেড বা এভারটন এর হয়ে হলে খুশি হবেন তাও জানিয়েছেন মন খুলেই।


The protector:
ক্লাস অব ৯২ এর সবচেয়ে সবচেয়ে লাজুক মানুষ সম্ভবত নিকি বাট। এই ভদ্রলোক ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ৩৯ বার। ইউনাইটেড এর হয়ে ২৭০ বার। পরে নিউক্যাসেল এর অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। তাদের রেলিগেশান আর সেখান থেকে উঠে আসার নেতা হিসাবে ছিলেন অতুলনীয় আদর্শ। কিন্তু আর সব ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর মত নাম ডাক কমই রয়ে গেছে অন্যদের চেয়ে। কিন্তু একটা কথা হলফ করে বলা যায়। ট্রেবল জেতা সেই ১৯৯৯ এর ইউনাইটেড এ রয় কিন এর পাশে যে শান্ত ভদ্র তরুন চুপ করে নিজের কাজ করে যেতেন তিনি হয়ত আর্টিস্ট নন। নন আন্দ্রেয়া পিরলো বা ক্লদ ম্যাকলেলে। কিন্তু তিনি একাধারে দুটোই। ইউনাইটেড এর প্রথম ডিফেন্ডার আর প্রথম এটাকার দুই রোল এই নিকি বাট সেই লোক যিনি দলকে দিতেন ব্যালেন্স। ছোট খাট কোচিং এর কাজ তিনিও করেছেন। ইউনাইটেড এর কোচিং স্টাফ এ তার উপস্থিতি বেশ নিয়মিতই ছিল গত কয় বছরে।

The Loyal:
loyal কথাটা বলা হলে যে কয়জন লোকের কথা মাথায় আসবে তার মধ্যে রায়ান গিগস না থেকেই পারে না। এই ভদ্রলোক ই দলের সবচেয়ে বেশিদিন সার্ভিস দেয়া খেলোয়াড়। দলের আইকনিক নাম্বার ১১। ওয়েলশ উইন্ড তার ক্যারিয়ার এর শুরুতে ছিলেন ত্রাস ছড়ানো লেফট মিডফিল্ডার। ড্রিবলার হিসাবে এত দ্রুত আর এত নিখুত কাউকে প্রিমিয়ার লীগ সেই সময় আর দেখে নি। গোল ও করতেন প্রচুর। বয়স বাড়ল। গতি কমে গেল। পজিশান বদলে চলে আসলেন সেন্ট্রাল রোল এ। বয়সের সাথে পাসিং আর ভিশান নিখুত হল। ইউনাইটেড এ অনেক তারকা এসেছেন। চলে গেছেন। যখন কেউ চলে গেছেন তার ফাকা জায়গায় গিগস সার্ভিস দিয়েছেন। দেখিয়েছেন দলের প্রতি ভালবাসা থাকলেই হল। কোয়ালিটি তো বিধাতা দেন। গড়ে পিটে নিজেকে সব জায়গায় বছরের পর বছর মানিয়ে নিতে কয়জন পারে? এই ভদ্রলোক ইংলীশ নন। তাই খেলা হয় নি ইউরো তেবা বিশ্বকাপে। কিন্তু ইউনাইটেড এর হয়ে লীগ ই জিতেছেন ১৩ বার। ২ বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। ৬৭২ ম্যাচ খেলে শিরোপা ঘরে তুলেছেন ৩৪ খানা। ৪০ বছর বয়সে বুট তুলে রেখেছেন। কিন্তু লয়ালিটি এখনো তাকে রেখে দিয়েছে ইউনাইটেড এর ডাগ আউটে। ফার্গুসন এর প্রিয় ছাত্র প্রাণপনে খেটে চলেছেন ফার্গুসন চলে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে।আপদকালে দুইবার কোচের দায় নিয়েছেন। হয়তো একদিন পাকাপাকি ভাবেই বসে যাবেন গুরুর আসনে।

The prince:

লয়ালিটির গুনগান সব গিগস এর নামে বলে ফেলাতে এই ভদ্রলোক হয়তো মন খারাপ করে বসতে পারেন। দুই দুইবার অবসর নিয়েও ফিরে এসেছেন প্রিয় দলের ডাকে। জাতীয় দলের ক্যারিয়ার ছোট করে ২৯ বছর বয়সে রিটায়ার করে বসেছিলেন ক্লাবে আরো সময় দিতে চান বলে। কিন্তু লয়ালিটির চেয়ে পল স্কোলস কে মনে রাখতে হবে ইংলীশ ফুটবল এর সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডার হিসাবে। স্কোলস ছিলেন ৯০ এর দশকের বিশুধ মিডফিল্ডার এর আদর্শ চেহারা। গতি ছাড়া আর কোন দিকে কমতি ছিল না। ডীফেন্স করতেন পাক্কা ডিফেন্ডার এর মত। এটাকিং থার্ড এ ৪৯৯ ম্যাচে ১০৭ গোল বলে ফিনিশার হিসাবেও ছিলেন বলার মত একজন। আর কী কী পারতেন? কী পারতেন না? এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। সলো রান, ড্রিবলিং, দূর থেকে শুটিং এ বিশ্বমানের ছিলেন নিঃসন্দেহে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একবার বলেছিলেন ফ্রী কিক প্র্যাকটিস এ মজা করে একটু খোচা দিয়েছিলেন স্কোলস কে যে তিনি স্পট কিক নিতে পারেন না টাইপ এর কথা বলে। স্কোলস ৫০ গজ দূরে গাছের গায়ে বলের সমান বৃত্ত একে লক্ষভেদ করেছিলেন একবারের চেষ্টায় এর জবাবে। কিন্তু স্কোলস কে আলাদা করে তার পাসিং। গ্রাউন্ডে, বাতাসে, লবে থ্রুতে পাস মাস্টার বলতে যা বুঝায় স্কোলস ছিলেন তার বেশি কিছু। ইউরোপে ইন্টিউশান পাস মাস্টার খুব বেশি জন্মায় না। আর ব্রিটেন এ তো একেবারেই না। স্কোলস বৃটিশ হয়েও তাই স্প্যানিশ বা ল্যাটিন ঘরানার একজন। যার মত কাউকে ইংল্যান্ড আর পায় নি। জেরার্ড ছিলেন। ল্যাম্পার্ড ছিলেন। এরা দুইজন গ্রেট হয়তেও এদের নামে ট্যাগ এরা বড্ড এক রকম ছিলেন। আর সমস্যা যেটা এরা কেউ স্কোলস ছিলেন না। জিদানকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- how does it feel to be the greatest midfielder in world? জিদানের উত্তর ছিল- I don’t know. Ask Paul Scholes. বৃটিশরা যেমন স্কোলস এর মত আর কাউকে পায় নি, স্কোলস ও বৃটিশ বলেই কোন আনতর্জাতিক ট্রফি ছুয়ে দেখতে পারেন নি হয়ত। ১১টা লীগ বা ২৫ টা শিরোপার পরেও এই আফসোস স্কোলস এর না থেকে পারেই না যে তিনি কখনো দেশের হিরো হয়ে উঠতে পারেন নি। সে তিনি হোন বা না হোন। মাঠের মধ্যে ginger রঙ এর চুল ওয়ালা লোকটি যে দর্পের সাথে বিচরণ করতেন তাতে সমর্থকেরা তাকে ভালবেসে প্রিন্স এর আসনে বসাতে ভুল করেনি। নাম দিয়েছিল The ginger prince.

 

The Golden Englishman:
ইংল্যান্ডের হিরো অবশ্য একজন হয়েছিলেন এই ক্লাস এর। ডেভিড বেকহ্যাম। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফাইয়ার। বিশ্বকাপে খেলতে হলে ড্র চাই। গ্রীস এর সাথে। গ্রীস এর গোল শোধ করেও আবার পিছিয়ে পড়ল ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচে করুন পারফরম্যান্স ১০ জন এর। একজন শুধু খেলে চলেছেন চোয়াল চেপে। পিঠে নাম্বার ৭ জার্সি। হাতে ইংলীশ অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। পড়ছেন, উঠছেন।প্রতিটা বলের পিছনে যাচ্ছেন পাগলের মত। ৯০ মিনিটের মাথায় ফ্রী কীক পেল বক্সের বাইরে ইংল্যান্ড। রেফারী জানিয়ে দিলেন এই কীক এর পরে আর খেলা হবে না। সোনালী চুলের চরম সুদর্শন লোকটা নিলেন তার ট্রেডমার্ক বাকান ফ্রী কীক। রংধনু হয়ে সেটা ইংল্যান্ড কে নিয়ে গেল ২০০২ বিশ্বকাপ এ। ডেড বল সিচুয়েশান এ ইংল্যান্ড এর ভাল খেলোয়াড় সব সময় ছিল। কিন্তু তারপরেও বেকহ্যাম এর মত কেউ কখনো ছিল না এটা একবারে বলে দেয়া যায়। আরেকটা ব্যাপারে এই একই কথা বলা যায় তাকে নিয়ে। গ্ল্যামার। এত বড় তারকা ইংলীশ ফুটবল আর পায় নি। এই যে দেখুন কোথায় ইউনাইটেড এর বেকহ্যাম কে নিয়ে বলব না চলে যাচ্ছি অন্যদিকে। গ্ল্যামার এর ছড়াছড়ি, নতুন চুলের স্টাইল বা স্পাইস গার্ল ভিক্টোরিয়ার সাথে রোমান্স- এওসব কারনেই ইউনাইটেড ছাড়তে হয়েছিল বেকহ্যাম কেন। প্রিয়তম ছাত্রের এত দিকে মনোযোগ ফার্গুসন খুব ভালভাবে নিতেন না। বেকহ্যাম দাবী করতেই পারেন ২৬৫ ম্যাচে ৬৫ গোল আর অগুনতি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়া মুহুর্ত কী মনোযোগ ছাড়াই করতেন? ও ভাল কথা- ওই যে ১৯৯৯ এর দুই বিখ্যাত কর্নার- ও দুটো কিন্তু বেকহ্যামের পা ছুয়েই এসেছিল। বেকহ্যাম পরে রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, পি এস জি এর হয়ে খেলেছেন। লস এঞ্জেলস গ্যালাক্সির হয়ে আমেরিকায় ফুটবল এর জনপ্রিয়তা দ্বিগুন করে দিয়েছেন প্রতিটা ক্লাবের হয়ে জিতেছেন শিরোপা। তাকে নিয়ে ছবি হয়েছে তিনি নিজে অভিনয় করেছেন ছবিতে। বেকহ্যাম শুধু একজন ফুটবলার নন। একটা ব্র্যান্ড। ১৯৯২ এ প্রেসটন এর দোতলা বাসায় বসিয়ে ভিক্টোরিয়াকে বলেছিলেন একদিন অনেক বড় ফুটবলার হবেন। বাকিঙ্গহ্যাম প্যালেস কিনে ভিক্টোরিয়াকে দেখিয়েছেন কত বড় হয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ এর ওয়েবসাইটের হল অব ফেম এ তাঁর নামের পাশে লেখা আছে - The Golden Englishman বেকহ্যাম এই সোনালী প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারার নাম।



ফার্গুসন এর সাথে গিগস বাদে বাকী সব ৯২ এর ই কম বেশি উচু নিচু সম্পর্ক গেছে। সবাই যে অন্ধভাবে ফার্গির অনুসারী ছিলেন এমন না। তাদের প্রত্যেকে চারিত্রিক দিক থেকে প্রভাবশালী এবং নেতৃত্ব গুন এ ভরা। প্রত্যেকে কম বেশি ইউনাইটেড এর অধিনায়কত্ব করেছেন। বেকহ্যাম তো ইংল্যান্ড আর ইউনাইটেড এর iconic captain এর চেহারা। স্কোলস সন্দেহাতীত ভাবে সর্বকালের সবচেয়ে প্রতিভাবান ইংলিশ ফুটবলার। এরা সবাই ক্যারিংটন এর আলো বাতাসে একসাথে বেড়ে উঠেছেন কাধে কাধ রেখে। তারপরে একদিন একই সাথে বিশ্ব শাসন করেছেন। ফুটবল ইতিহাসকে এই দেয়াটার জন্যে ফার্গুসন হয়তো তার অগুনতি শিরোপার চেয়ে বেশি ভালবাসা পেয়েছেন, পাচ্ছেন। পাবেন।