• ক্রিকেট

“কার্ডিফের সবুজ গালিচায় বাংলাদেশের রাজকীয়তা!”

পোস্টটি ১৪২১ বার পঠিত হয়েছে

 “looks to smack it away but loses his shape and his off stump. The record 224-run stand is over”

ম্যাচের ৪৭ তম ওভারে সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পরের দৃশ্য এটি। ক্রিকইনফোর কমেন্ট্রিতে ভেসে আসছে এই লাইন টা। কিন্তু এমন উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে বাংলাদেশ যে ২০০৫ সালের স্মৃতি পুনরায় টেনে আনবে তা কি কখনো ঘুনাক্ষরেও ভেবেছিলেন কিউইদের দলপতি কেন উইলিয়ামসন?? টস ভাগ্যে জয়ে ওমন উইকেটে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ হাতছাড়া করেনি কেন; টস ভাগ্য জয় শেষে বাংলাসেশের ইনিংসের ১২ ওভার পর্যান্তও ছিলো জয়ের সুভাষিত আত্ববিশ্বাস। ৪৮ তম ওভারের ৩য় বলটা যখন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে চুমু খেয়ে গালি এবং স্লিপের মাঝখান দিয়ে তার আপন ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখন পিনপতন নিরবতায় মুখ বিষন্নতায় ভাঁজ পড়েছে নিউজিল্যান্ড শিবিরে! 

gettyimages-694067210-612x612

কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনিংসের গোড়াপত্তনের ১ম ব্যাক অফ ল্যান্থ বল টা বেশ কিছু টা অস্বস্তি ফেলে মার্টিন গাপটিল কে। ব্যাটসম্যানের শক্তির বিচারে মাশরাফির ফিল্ড সেটাপে ফাইন লেগ উপরে এবং মিড-উইকেট এর ফিল্ডার সীমানা ছুঁইছুঁই। এর মধ্যে ওভারের ৫ম বলে গাপটিলের ব্যাটে চুমু খাওয়া বল খুঁজে পায়নি কোনো ফিল্ডার৷ ১ম ওভার শেষে স্কোর দেখাচ্ছে ১-০।

উইকেটে রানের জন্যে আঁশ ফাঁস করতে থাকা দুই কিউই ব্যাটসম্যান ২য় ওভার থেকেই হাজির হলেন বাংলাদেশের জন্যে সাক্ষাত যমদূত হিসেবে! কাভার এবং পয়েন্টের ফিল্ডার কে পরাস্ত করে ২ চার এবং মিডি উইকেটে ঠেলে ৩ রানের সুবাদে শেষ হয় মুস্তাফিজের করা ১ম ওভার। দলীয় ৩য় ওভারে মেইডেন আদায় করা মাসরাফি হয়তোবা তখনো আচঁ করতে পারেননি ঝড়ের শুরু কেবল হলো বলে।

এর পরের ২ ওভারে পয়েন্টে কিংবা লং অফ, কাভার পয়েন্টের শূন্য স্থান খুঁজে বল চিনে নিয়েছে তার আপন জায়গা। আপনি যদি ভাবেন ম্যাচ টি হচ্ছে এক শক্তিধরের সাথে এক পুচঁকে নেওটা দলের তাহলে আপনি ভুল করবেন। স্টেডিয়ামে বসে থাকা ১৫০০০ হাজার মানুষের গগনবিধারী সব উল্লাসের ধ্বনী তার সর্বোত্তম প্রমাণ! ক্ষনিকের জন্যে গ্যালারিতে টাইগার ভক্তদের মাঝে পিনপতন নিরবতা নেমে এলেও৷ টাইগার কাপ্তান মাশরাফি নিয়ে এলেন তাসকিন কে তাদের এন্টারটেইনিং কিছু উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ইনিংসের ৮ম ওভারের ১ম বলে তাসকিনের এক্সট্রা পেইসে লক্ষ্য ভ্রষ্ট এক শটে প্যাভিলিয়নের পথ খুঁজতে যখন লুক রঙ্কি ব্যাস্ত তখন ক্রিকেটপ্রেমীরা স্টেডিয়াম আন্দোলিত করছে গন জোয়ারের আত্ব-চিৎকারে!

হঠাৎ আপনার স্কোর কার্ডে চোখ গেলো! দেখতে পেলেন ১০ ওভারে রান রেট ঘুরঘুর করেছে ৬ এ। সবুজাভ বিস্তরে বাদামী উইকেটের লড়াইয়ে এখনো রানের চাকায় সচল রেখে চলেছেন কিউই অধিনায়ক এবং মার্টিন গাপটিল! রানের লাগাম টানতে মাশরাফির এবারের চাললেন দাবার আরো এক ঘোড়া কে! রুবেলের দুর্দান্ত এক গুড লেন্থের বলে, লাইন মিস করে লেগ বিফোরের আবেদন! আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে যখন মার্টন গাপটিন প্যাভিলিয়নে তখন ১৩ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৭০/২।

এরপর আপনি দেখছেন ক্রমেই বিপদের ১০ নাম্বার সতর্ক সংকেত দিচ্ছে কেন উইলিয়ামসন এবং রস রস টেইলর এর ৩য় উইকেট জুটি! একপাশে সব সিমাররা রানের ফুয়াড়ায় নিউ-জিল্যান্ড কে রান উপহার দিলেও বিপরীত কন্ডিশনে ব্যাতিক্রমী সাকিব! সব বোলারদের কে অবলীলায় মাঠ ছাড়া করে রান আদায় করলেও কিউই দুই ব্যাটসম্যান রান নিতে খাবি খাচ্ছিলেন সাকিবের বিপক্ষে। দলীয় ২৯ ওভার শেষে যখনি আপনার চোখ স্কোর কার্ডে যাবে তখন চক্ষু হবে ছানা বড়া। ২৯ ওভার শেষে ১৪৮/২।

৩০ তম ওভারের শেষ বলে কিউই দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বুঝাবুঝিতে আসে বাংলাদেশ সুযোগ৷ তরুন মোসাদ্দেক নড়বড়ে থ্রুতে পুরো ৩৬০° নিজের শরীর কে ঘুরিয়ে স্ট্যাম্পের জিংক বেল উড়িয়ে দিলেন সাকিব। ফলাফল ৩য় উইকেটে পতন নিউ-জিল্যান্ড শিবিরে। কোনো উদযাপন না করা গুরু-গম্ভীর সাকিব হয়তোবা মনে মনে বলছিলেন “বড্ড ভুল মানুষের হাতে রান আউটের কবলে পড়েছো”

ক্রিকিনফোর কমেন্ট্রি তখন বলে

May be 10-0-52-1 for Shakib? You gotta give that run out to him, he built the pressure and then collected a horrible throw to complete the runout" --- Yep.”

 

৩৮ ওভারে এসে ক্রমেই বিপদের কর্কট ক্রান্তি রেখায় পৌছানোর পূর্বেই ধারুন স্লোয়ার শর্ট বলে রস টেইলর কে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে তাসকিন আহমেদ! আপনি তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর দেখছেন ২০১/৪- ৩৯ ওভারের বিনিময়ে।

ম্যাচের ৪২ তম ওভার পর্যন্ত অবলীলায় যখন মাঠ ছাড়াচ্ছে সকল পেসার বল এর তখন খানিক চিন্তার ভাঁজ টাইগার ক্রিকেটপ্রেমীদের কপালে! সকল চিন্তার অবসানে মাশরাফি এবার চাললেন দাবার শেষ গুটি। নিয়মিত বোলিং এর পরিবর্তে মাশরাফি নিয়ে আসলেন পার্টাটাইম অফ-স্পিনার কে৷ বোলিং প্রান্ত এসে হাজির খনিক আগেই সহজ ক্যাচ হাত থেকে ফঁসকানো মুসাদ্দেক হোসেন সৈকত। যেনো মোসাদ্দেক প্রাণপণে চেষ্টায় ছিলেন ক্যাচ মিসের অভিশাপ কে পূন্যে রূপান্তরিত করতে।

IMG_20200524_043903

ঠিক তখনি স্কোর কার্ডের দিকে নজরে আপনি দেখলেন ব্যাট হাতে রূড়মূর্তি ধারণের সময় গুনছে দুই কিউই ব্যাটসম্যান নেইল ব্রম এবং জিমি নিশাম। স্কোরে তখনো ভাসছে ২২৮/৪ ঠিক ৪৩ ওভার শেষে৷ কিন্তু ৪৪ ওভারের প্রথম ৩ বল শেষে নিউ-জিল্যান্ডের স্কোর ২২৯-৬। ওভারের ১ম বলে নেইল ব্রম কে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিতে উদ্যত করেন মোসাদ্দেক আর ৩য় বলে ক্রমেই বিপদজ্জনক হয়ে কোরি এন্ডারসন কে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ক্রিকইনফোর কমেন্ট্রিতে তখন ভাসছে,

"Great captaincy bringing on Mossadek rather than more predictable bowling out the seamers - and paying off for BD"

মাশরাফির তুরুপের সেই তাস পরের ওভারে আবারো স্টেডিয়ামে গগবিদারী চিৎকারের কারণ হলেন ব্যাক্তিগত ৩য় ওভারে এসে জিমি নিশাম কে স্ট্যাম্পিং ফাদেঁ ফেলে। আর আপনার চোখে পড়ছে মোসাদ্দেকের আগুনে বোলিং ফিগার! সংখ্যায়- ৩-০১৩-৩।

ইনিংসের যখন ক্রান্তিলগ্ন ঠিক তখন মোস্তাফিজ হাজির তার নিজের স্বমহিমায়। দারুন স্লোয়ার ইউয়র্কারে দুই পায়ের মাঝে দিয়ে বল খুজে নেয় জিং বেলের নিচে দাড়িঁয়ে থাকা ৩টি দন্ডে! ৫০ তম ওভারের শেষ বলে যখন রুবেলের বলে সাউথির চারে ইনিংসের ইতি, তখন নিউ-জিল্যান্ড এর স্কোরে চক চক করছে ২৬৫/৮ মাঝারী মানের স্কোরে!

ডু অর ডাই ম্যাচ, জিততে পারলে ভারী হবে সেমিফাইনালে যাবার পাল্লা। এসময় আপনি যদি ক্রিকেট কে ব্লিশ্লেষনের নীতিমালা আবদ্ধ তাহলে ভুল পরিপূর্ণ থাকবে আপনার ধারণা। ৯ জুন ২০১৭ এর আগে নিউ-জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ৪ টিতে হারা বাংলাদেশ এই ম্যাচে ও হারবে। এমন ধারণা ছাড়াও আপনার মাথায় আসতে বাধ্য ২০০৫ সালে এই কার্ডিফেই অস্ট্রেলিয়া বধের সেই রূপকথা! মনে সায় দিচ্ছিলো দুটানায়। তবে ভাগ্যদেবী যে আজ রচনা করবেন রূপকথা তার নিদর্শন ছিলো বাংলাদেশের ইনিংস!

খানিক বাদেই শুরু হবে বাংলাদেশের ব্যাটিং। নিউ-জিল্যান্ড কে প্রথমে খুব আত্বাবিশ্বাসী মনে হলেও মাঝারী মানের স্কোর দেখে চিন্তার ভাঁজ বোঝা যাচ্ছিলো ফিল্ডিং এ। সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে আম্পায়ার বললেলন ‘লেটস প্লে’। বলতে না বলতেই বল হাতে টিম সাউথির ১ম বল তামিম ইকবাল আলতো করে খেললেন। তখনো কি কেউ জানতো ঐ ম্যাচ এতো চিত্রনাট্য উপহার দিবে??

ওভারের ২য় বলে সাউথির দুর্দান্ত এক ইন-সুইঙ্গিং ডেলিভারীতে ব্যাটসম্যান আউট লেগ-বিফোরের ফাঁদে পা দিয়ে। চক্ষু চড়ক হবে তখনি আপনার, যখন দেখবেন ব্যাটসম্যানের নাম তামিম ইলবাল। পুরো টুর্নামেন্টে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তামিম দলের গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে আবারো দীর্ঘশ্বাসের নাম। তিনে নামা সাব্বিরের ব্যাটে ২ চারে ১ ওভারে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮-১।

ইনিংসের ৩য় ওভারে এবং নিজের ব্যাক্তিগত ২য় ওভারে আবারো বল হাতে টিম সাউথি। নিজের সুইং বিষে নিল করে এবারো তুলে নিলেন সাব্বির রহমান কে। দুরন্ত এক আউট সুইং লুক রঙ্কির গ্লাভসে যুগলে আটকা পড়েন সাব্বিব রহমান। ইনিংসের ৫ম ওভারে এবং নিজের ব্যাক্তিগত ৩য় ওভারে আবারো সাউথির সুইং বিষে নীল বাংলাদেশ ড্রেসিং রুম। চরম ব্যর্থতার এক ট্র‍্যাজেডি যেনো ভাগ্যদেবী লিখে রেখেছিলো সীমিত সময়ের বিভ্রমের জন্যে। ঠিক তখন স্কোর দেখাচ্ছে ১২-৩। 

gettyimages-694175782-612x612 (1)

৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশী ব্যাটিং লাইন আপ ছন্নছাড়া ঠিক তখন সাকিব মুশির জুটিতে আবারো গগণবিধারী চিৎকারে মাঠে উল্লাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন টাইগার ভক্তরা। তা বুঝতে পেরে কিউই অধিনায়ক দিলেন গুটির এক মোক্ষম চাল। ইনিংসের ১ম বোলিং পরিবর্তনে নিয়ে আসলেন মুশফিকের যমদূত কে! ১২ তম ওভারের ৪র্থ বলে ১৪৬ কিলোমিটার/ঘন্টার এক গোলায় মুশফিক হারান তার মিডিল স্ট্যাম্প হারিয়ে পূর্ন করেছিলেন ব্যাটিং লাইন-আপের ব্যর্থতার ষোলকলা! ঠিক তখন আপনার চোখে স্কোরকার্ড ৩৩-৪।

আর ক্রিকইনফোর চোখে কমেন্ট্রি;

“The quick bursts through the bat-pad gap. Not a memorable birthday for Mushfiq”

নিজের ৩০ তম জন্মদিনে মুশফিকে বিষন্ন চাপা কষ্টে হেলমেটের আদলে মুখ ঢেকে তবে মাঠে ছেড়েছিলো মি.ডিপেন্ডেবল। তখন বিষন্নতার আচ্ছাদনে পুরো দল এক অন্ধকার সময়ের সঙ্গী। তবে সেখানেই কি শেষ ছিলো? না আলো হাতে এসেছিলো পঞ্চপান্ডবের দুই। বিষন্নতা তখন হারায় ঐ দূর অজানায়!

চলুন ফেরা যাক ম্যাচে; আপনারা দেখছেন মুশফিকের আউটের পর ৬ নাম্বার ব্যাটসম্যান হিসেব মাঠে প্রবেশ করেছে সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ। ইনিংসের ১৮ তম ওভারে সাকিবের ডাউন দ্যা গ্রাউন্ডের চার দিয়ে শুরু। এরপর ১৯ তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ এর ছয়, চারে ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮২-৪

আপনি দেখছেন অবলীলায় রানের চাকা সচল রাখা বাংলার নবাব সাকিব এবং সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইলো হাতে হাতে ভেলকিবাজি! তেমনি ইনিংসের গড়ার মেরামতে অনবদ্য দুই শিল্পির উইলো হাতে পরবর্তী বাউন্ডারি আসে টানা ১৮ বলের শেষে ২৩ তম ওভারে!

gettyimages-694219024-612x612

ম্যাচের বয়স তখন ২৮ ওভার। ২৯ তম ওভারের শেষে এডাম মিলনের অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের বল থার্ড ম্যানের দিকে ঠেলে দিয়েই সাকিবের ১ বারের জন্যে প্রান্ত বদলে সাকিব পূর্ণ ব্যাক্তিগত অর্ধশত এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে শতরানের জুটি! এরপর ৩১ তম ওভারের শেষ বলে ট্রেন্ট বোল্টের বলে থার্ড ম্যানে বল পাঠিয়ে প্রাণপণে দৌড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ ২ রান নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো ব্যাক্তিগত অর্ধশত পূর্ণ!

ক্রিকইনফোর কমেন্ট্রিতে তখন ভেসে আসছে;

“127 off 120 with six wickets in hand. Doesn't look so bad now, if you're a Bangladesh fan.”

 

হ্যা সত্যিই তখন আশার পালে বাতাসের স্পর্সে তখন টাইগার ক্রিকেট ভক্তরা দেখতে শুরু করেছে অসম্ভব কে সম্ভব করে ম্যাচ জিতে নেওয়ার। ইনিংসের ১২ তম ওভারে টিভি বন্ধ করে দেওয়া ক্রিকেট পাগল জাতিও তখন ফিরতে শুরু করেছে টিভির পর্দায়।

এরপর রিতিমত কিউই বোলারদের নিজেদের ক্রিকেট ব্যাকরনে শাসিয়েছেন দুই টাইগার ক্রিকেটার। এই দুই ব্যাটসম্যান দ্বয়ের জুটিতে ভাঙতে কেন উইলিয়ামসন চাল দিয়েছেন নিজের হাতে থাকা শেষ গুটি অব্দি! শেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে হাত ঘুরিয়েছেন নিজেও। কিন্তু কাজ কিছুতেই কিছু হয়নি এই যুগলদ্বয়ের। দুজনের লম্বা এই ব্যাটিং শৈলির গল্পে বল বহুবার খুঁজে নিয়েছে নিজের আপন জায়গা। কখনো হাওয়ায় ভেসে আবার কখনোবা মাটে কামড়ে বল হারিয়েছে জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের অতল গহব্বরে।

gettyimages-694223138-612x612

আপনি দেখছেন, ৪৬ তম ওভারের ৫ম বলে সাকিবের ছয়। ছয়ের বিশালতায় সাকিব নিজের স্বমহিমায় তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বুকে জড়িয়ে উদযাপন করছে নিজের আরো একটি সেঞ্চুরির মাইলফলক। খানিক আগে, সেঞ্চুরির কিঞ্চিৎ আগে সাকিব মাহমুদউল্লাহ অর্জন করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটি এবং খানিক বাদে সাকিব যখন বোল্টের পর পর দুই বলে নান্দনিক চার মেরে পরের বলে আউঠ হয়েছেন ঠিক তখন সাকিব মাহমুদউল্লাহ অর্জন করেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে ২য় সর্বোচ্চ বড় জুটির গড়ার খেতাব। অর্জনের খাতায় ১ম স্থান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে ৫ম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটি! দেশের ক্রিকেট তৎকালীন যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। বর্তমানে এর অবস্থান ২য় তে। 

ঠিক তখন আপনার চোখে এভং কানে বেজে চলেছে টাইগার ক্রিকেটপ্রেমীদের জয়োৎসবের আবছা আলোড়ন। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া টা যেনো ছিলো তখন মাত্র সময়ের ব্যাপার! ঠিক তখনো এক অজানা সংখ্যায় ডুবু ডুবু টাইগার শিবির। সাকিবের ব্যাটিং তান্ডবের পর মাহমুদউল্লাহ কি পারবেন নিজের সেঞ্চুরি আদায় করে নিতে??

gettyimages-694231412-612x612

৪৬ তম ওভারের ৩ এবং ৪ বলে মোসাদ্দেক এর সিঙ্গেলস ডাবলস ধরুন স্ট্রাইকে মাহমুদউল্লাহ। সবাই তখন চিন্তায় মগ্ন কি করবেন মাহমুদউল্লাহ? স্ট্রাইক নিজের রাখবেন নাকি বাউন্ডারির আদলে মাতাবেন নিজের সেঞ্চুরি? আপনি তখন দেখছেন লেগসাইডে টিপিক্যাল এক রিয়াদময় এক চারে শেজদায় সেঞ্চুরি উদযাপন করা এক অন্যরকম রিয়াদকে। ২০১৫ আইসিসি বিশ্বকাপের ফ্লাইং কিস হার মানায় এই উদযাপনে!

৪৮ তম ওভারের ২য় বলে, মোসাদ্দেক ব্যাটে স্পর্শ করা বল যখন সীমানা খুঁজে ঠিক তখন গর্জন উঠে স্টেডিয়াম থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এই বাংলার বুকে! ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ কে ম্যান ওফ দ্যা ম্যাচের কথা জিজ্ঞাসায় এক কথায় উত্তর আসে “অবশ্যই সাকিব এর যোগ্য দাবিদার”

ক্ষনে ক্ষনে ভিন্ন রূপ নেওয়া এই ম্যাচ অর্জ এর গর্জনের, সাফল্যের গল্পে অনন্য এক পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটে! ক্রিকেটে নিউ-জিল্যান্ড কে হোয়াইট ওয়াশ করার গৌরব ও আমাদের সংস্কৃতি তে নিহিত। তবে৷ সেদিনের সেই জয় ছিলো কিউইদের চেনা কন্ডিশনে চোখের জলে, নাকের জলে এক করে দেওয়া এক জয়। পরিশেষে ক্রিকেট এমনই। কেউ হাসে আর কেউবা ব্যর্থতা ডাকে রুমালের আড়ালে। এজয়ে টাইগাররা নিজেদের নিয়ে গিয়েছিলো অনন্য এক উচ্চতায়। আর তাই ম্যাচ গেথেঁ থাকবে কোটি ক্রিকেট ভক্তের ক্রিকেট স্পন্দন নামক মনিকোঠায়!

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।