• ক্রিকেটে করোনাভাইরাস
  • " />

     

    করোনাভাইরাসের পর ক্রিকেটে কোন দেশ কবে ফিরছে?

    কভিড-১৯ মহামারিতে থমকে যাওয়া বিশ্বে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রায় সবধরনের খেলাও। ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে ফিরছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন লিগ, টুর্নামেন্ট। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগাসহ ইউরোপিয়ান ফুটবল ফিরেছে প্রায় অনেক জায়গাতেই, শুরু হচ্ছে অন্য খেলাও। ক্রিকেটও তাই, অনুশীলন, সিরিজ-- শুরু হচ্ছে ধীরে ধীরে, অথবা চলছে প্রস্তুতি। 

    টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশের ক্রিকেটের হালচাল...



    অস্ট্রেলিয়া 

    এখন পর্যন্ত শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচটি খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনিতে দর্শকশূন্য মাঠে, ১৩ মার্চ ২০২০-এ। ক্রিকেটের মৌসুম গ্রীষ্ম আপাতত শেষ তাদের, ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমও সম্পন্ন হয়েছে। সফলভাবে উইমেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও আয়োজন করেছে তারা। তবে শীতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সফর স্থগিত রাখতে হয়েছে তাদের, এর মাঝে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্টের সিরিজও আছে। তবে এরই মাঝে আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে তারা, ২০২০-২১ মৌসুমে ঘরোয়া আন্তর্জাতিক সূচিও ঘোষণা করেছে এরই মাঝে। 

    অবশ্য আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতির মুখে পড়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিয়েছে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত-- এর মাঝে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ গ্রায়েম হিকসহ ৪০ জনের চাকরি গেছে। তবে সামনের গ্রীষ্মে ভারতের সঙ্গে সিরিজ নিয়ে বেশ আশাবাদী তারা। পরের মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ কমানোর পরিকল্পনা থেকেও সরে এসেছে সংগঠনটি। উইমেনস ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপও হবে পুরো সূচিতেই। বিগব্যাশ ও উইমেনস বিগব্যাশও পুরোদমে হবে, ঘোষণা এসেছে এমন। 

    অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্বিতীয় একাদশ বা সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচ বাতিল করেছে তারা। সঙ্গে অ-১৭ পর্যায়ের ক্রিকেট এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে বহাল আছে ছেলে ও মেয়েদের অ-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটের পরিকল্পনা। 

    কভিড-১৯ থেকে ফিরতে তিন ধাপের পরিকল্পনার শেষ ধাপে যেসব ভেন্যুর ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার পর্যন্ত, সেসবে ২৫ শতাংশ দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের, যেটি কার্যকর হতে পারে জুলাই থেকেই। 


    এফটিপি পরবর্তী সিরিজ

    জিম্বাবুয়ে (হোম, ওয়ানডে), ইংল্যান্ড (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), উইন্ডিজ (হোম, টি-টোয়েন্টি), ভারত (হোম, টি-টোয়েন্টি), আফগানিস্তান (হোম, টেস্ট), ভারত (হোম, টেস্ট+ওয়ানডে) 


    আফগানিস্তান 

    ৭ জুন এক মাসব্যাপী অনুশীলন ক্যাম্পে ফিরেছে আফগানিস্তান ২২ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে। কাবুল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রস্তাবিত এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ প্রস্তুতি শুরু করেছে তারা। তবে দুটি টুর্নামেন্টের একটিও নিশ্চিত হয়নি এখনও। এফটিপির বাইরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজের কথা ছিল তাদের, তবে সেটি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। 

    এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের নিশ্চিত হওয়া সূচির মাঝে আছে নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট। এর মাঝে তাজিকিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশনের কাছ থেকে সে দেশের লিগে আফগান ক্রিকেটারদের খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল তারা, তবে আইসিসির সদস্যপদ না থাকায় সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। 

    ২০২০ সালে শপাগিজা ক্রিকেট লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে তারা, যা দেশটির ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ। ২০১৯ এর অক্টোবরে আগের মৌসুমের লিগ শেষ হয়েছে। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ 

    আয়ারল্যান্ড (অ্যাওয়ে, টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, টেস্ট) 
     


    মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া, ছেলেদেরটা হবে কি?/আইসিসি



    বাংলাদেশ 

    এ সময় মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। সে সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে আগেই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজও স্থগিত হয়ে গেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হতে পেরেছে মাত্র এক রাউন্ড। স্থগিত হয়ে গেছে মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেটও। 

    তবে ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক-- কোনও ধরনের ক্রিকেটে ফেরা এখনও প্রবলভাবে অনিশ্চিত বাংলাদেশের জন্য। দেশে ‘সাধারণ ছুটি’ তুলে নেওয়া হলেও কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই গড়ছে নতুন রেকর্ড। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরার ব্যাপারেও কোনও টাইমলাইন এখনও দেয়নি বিসিবি। 

    কভিড-১৯ সরাসরি আক্রমণ করা শুরু করেছে ক্রিকেটারদেরও। ২০ জুন একইদিনে এসেছে তিনজন ক্রিকেটারের আক্রান্ত হওয়ার খবর- ওয়ানডের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল ও বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। 

    সামনে শ্রীলঙ্কায় ৩ টেস্টের সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের, তবে সেটির সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজও। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও অনিশ্চিত বলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপাতত আলোর দেখা নেই। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ

    শ্রীলঙ্কা (অ্যাওয়ে, টেস্ট), নিউজিল্যান্ড (হোম, টেস্ট), নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, টি-টোয়েন্টি), শ্রীলঙ্কা (হোম, ওয়ানডে) 


    বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিশ্চিত নয় এখনও কিছুই/বিসিবি



    ইংল্যান্ড 

    ৮ জুলাই সাউথাম্পটনের এজিয়েস বোউলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ‘বায়ো-সিকিউর’ ভেন্যুতে শুরু হবে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও ফিরছে সে ম্যাচ দিয়েই। এরই মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ডে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ‘বেস-ক্যাম্প’ গড়েছে তারা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের ভেন্যু ওল্ড ট্রাফোর্ডই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তান যাবে ইংল্যান্ডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। 

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গ্রীষ্মের সূচি পিছিয়ে গেলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ইংল্যান্ডের। তবে ঘরোয়া মৌসুম এখনও অনিশ্চিত তাদের। ১ আগস্টের আগে হবে না কোনও ঘরোয়া ম্যাচ। এরই মাঝে আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর প্রথম আসর। অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট। সবধরনের পেশাদার ও রিক্রিয়েশনাল ক্রিকেটও বাতিল করা হয়েছে এ মৌসুমে। 

    তবে ভিন্ন ফরম্যাটে ফেরার সম্ভাবনা আছে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের, সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের। কাউন্টি দলগুলি অনুশীলনেও ফিরছে। অক্টোবর পর্যন্ত কাউন্টি মৌসুম গড়ালে দর্শকদের প্রবেশের অনুমতি থাকতেও পারে, এমন জানিয়েছে ইসিবি। 

    এর আগে ধাপে ধাপে ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফিরিয়েছে ইসিবি, প্রথমে নিজ নিজ কাউন্টি মাঠে আলাদা করে অনুশীলন করেছিলেন পেসাররা। সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক সিরিজ সামনে রেখে অনুশীলনে ফিরেছেন উইমেনস দলের সদস্যরাও। 

     
    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান সিরিজ বাদে)

    অস্ট্রেলিয়া (হোম, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), আয়ারল্যান্ড (হোম, ওয়ানডে), ভারত (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি) 
     


    অনুশীলনে জিমি অ্যান্ডারসন, সবার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ/ইংল্যান্ড ক্রিকেট



    ভারত

    আইপিএল, নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ? শেষ পর্যন্ত হবে কোনটি? নাকি দুটিই? কভিড-১৯ মহামারিতে যেন ঝুলে আছে এ প্রশ্নের উত্তর, সঙ্গে ভারতের ক্রিকেটে ফেরাও। 

    ১৬ এপ্রিল আইপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদেশে আয়োজনের জন্য আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে প্রস্তাবও পেয়েছে বিসিসিআই। তবে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আদৌ এ বছর হবে কিনা, সেটির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি এখনও। 

    কভিড-১৯-এ এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, বর্তমানে ১ লাখেরও বেশি সচল-কেস আছে সেখানে। গত মাসে ইনডোরে খেলাধুলার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার, তবে রাজ্যভিত্তিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখনও আছে নিষেধাজ্ঞা। 

    এফটিপিতে থাকা শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে সফর বাতিল করেছে ভারত, বহুজাতিক টুর্নামেন্ট বাদ দিলে এফটিপিতে তাদের সূচিতে আছে শুধু অস্ট্রেলিয়া সফরই। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরার ব্যাপারেও কিছু জানানো হয়নি এখনও। 

    সম্প্রতি সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির হেড রাহুল দ্রাবিড় বলেছেন, এখনও ক্রিকেটে ফেরার ক্ষেত্রে প্রস্তুত নয় ভারত। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ 

    ইংল্যান্ড (হোম, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, টেস্ট, ওয়ানডে) 


    আয়ারল্যান্ড

    বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সফর স্থগিত করায় কার্যত নিজেদের দেশের মাটির আন্তর্জাতিক মৌসুম শেষ হয়ে গেছে আয়ারল্যান্ডের। তবে জুলাইয়ের শেষদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আশাবাদি তারা। 

    এরই মাঝে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটাররা অনুশীলনেও ফিরেছেন। সরকারের বিধিনিষেধ মেনে অনুশীলন শুরু করছে ক্লাবগুলিও। 

    তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনিশ্চিত বলে আয়ারল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজই, যেটি ২০২৩ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব সাইকেলে নতুন ওয়ানডে লিগের অংশ। 

    এসব ছাড়া স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে মিলিতভাবে ইউরো টি-টোয়েন্টি স্ল্যামের ক্ষেত্রেও আশার আলো দেখেছে আয়ারল্যান্ড। গত বছর শেষ মুহুর্তে আর্থিক কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এ টুর্নামেন্ট বাতিল হয়ে গেলেও আগস্টে এটি আয়োজনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ 

    ইংল্যান্ড (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে) 
     


    আইপিএল নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এবার হবে কোনটি? নাকি দুটিই? /আইপিএল



    নিউজিল্যান্ড

    ঘরোয়া মৌসুম শুরু হতে দেরি আছে, কভিড-১৯ থেকে প্রায় ‘মুক্ত’ও হয়েছে নিউজিল্যান্ড। অবশ্য সম্প্রতি নতুন ২-৩টি কেস পেয়েছে তারা। রাগবি এরই মাঝে ফিরেছে মাঠে। তবে আগামী মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য দলবদল হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডে।

    অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের এখন ব্যস্ত থাকার কথা ছিল অ্যাওয়ে সফরে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটির টি-টোয়েন্টি সিরিজ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল মহামারির শুরুর দিকেই, উইন্ডিজ ইংল্যান্ড সফর করছে বলে স্থগিত রাখা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্যারিবিয়ান সফর। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে মিলিত ইউরোপ সফরও থমকে গেছে তাদের। 

    এরপর বাংলাদেশ সফর করার কথা তাদের, যেটি অনিশ্চিত। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলার কথা তাদের, তবে সেটি ঝুলে যেতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর) 

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হোম, টেস্ট), পাকিস্তান (হোম, টেস্ট+টি-টোয়েন্টি) 

    পাকিস্তান

    পাকিস্তান সুপার লিগ, পিএসএল শেষ হয়নি। লাহোরে ‘বায়ো-সিকিউর’ পরিবেশে ইংল্যান্ড সফরের আগে অনুশীলন ক্যাম্পের পরিকল্পনা থেকেও সরে এসেছে পিসিবি, দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়াতে। 

    তবে ইংল্যান্ড সফর চূড়ান্ত হয়েছে তাদের। প্রথমে জুলাইয়ে দেশ ছাড়ার কথা থাকলেও এগিয়ে আনা হয়েছে সে তারিখ, ২৮ জুন ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তারা। ডার্বিশায়ারে অনুশীলন করবে, কোয়ারেন্টাইনও কাটাবে সেখানেই। জুলাইয়ের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত তিনটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। তবে এ সফরে নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। 

    অবশ্য আগস্টে শুরু হওয়ার কথা ঘরোয়া মৌসুম নিয়ে জোরালো সংশয় আছে। ২১ জুন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে সে দেশে। 

    এবারের এশিয়া কাপ হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানে, তবে সেটির আয়োজনের স্বত্ত্ব শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অদল-বদল করেছে তারা বলে খবর এসেছিল এর আগে। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ (ইংল্যান্ড সফরের পর)

    দক্ষিণ আফ্রিকা (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), জিম্বাবুয়ে (হোম, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, টেস্ট+টি-টোয়েন্টি)

     

    দক্ষিণ আফ্রিকা 

    ৩ দল। ১ ম্যাচ। ২৭ জুন অদ্ভুত এই ফরম্যাট দিয়ে ক্রিকেটে ফিরতে চেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে সেটি। 

    ভারত সফরে মার্চে ৩ ওয়ানডের জন্য গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর পরের দুটি হওয়ার কথা ছিল দর্শকশূন্য মাঠে। শেষ পর্যন্ত হয়নি একটিও। জুনে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কা সফরও স্থগিত হয়ে গেছে তাদের। 

    এমনিতে ক্রিকেট মৌসুম নয় এখন দক্ষিণ আফ্রিকায়, আগস্টে ভারতের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে পূর্বনির্ধারিত সিরিজও নেই তাদের। সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে অনুশীলনে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড এরই মাঝে ক্রিকেটারদের কভিড-১৯ পরীক্ষাও করিয়েছেন। 

    তবে ‘থ্রিটি’ ক্রিকেটের পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখার আগ পর্যন্ত ক্রিকেট ফিরছে না মাঠে। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় কভিড-১৯ ভাইরাসে। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ (অ্যাওয়ে, টেস্ট+টি-টোয়েন্টি), পাকিস্তান (ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি) 
     


    অনুশীলনে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা, তবে ক্রিকেটে কবে ফিরতে পারবে এখনও ঠিক হয়নি/শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট



    শ্রীলঙ্কা 

    আইপিএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা বিসিসিআইকে। এশিয়া কাপ নিজেদের দেশের আয়োজনের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশকে সে দেশে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সবশেষ, নিজেদের টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এসএলসি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে ফিরতে বা নিজেদের দেশের ক্রিকেট ফেরাতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত ব্যাটে-বলে হয়নি কিছুই। 

    মার্চে সফর স্থগিত রেখে দেশে ফিরেছে ইংল্যান্ড, জুনে নিজেদের সফর স্থগিত করেছে ভারত। বাংলাদেশ সফরও অনিশ্চিত প্রায়। 

    তবে আশা ছাড়েনি তারা। টেস্ট সিরিজের বদলে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য বাংলাদেশকে, সঙ্গে ভারতকে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ আয়োজনের ব্যাপারেও আশাবাদী শ্রীলঙ্কা। বিদেশী ক্রিকেটারদের নিয়ে টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনের চেষ্টাও এসেছে আইপিএল ও দ্য হান্ড্রেড নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে। 

    দ্বীপরাষ্ট্রটিতে করোনা সেভাবে আঘাত হানতে পারেনি, বিদেশী দল বা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কোয়ারান্টাইন দরকার নেই, বলা হচ্ছে এমনও। শুধু দেশ ছাড়ার আগে একটি ও শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে আরেকটি পরীক্ষায় ফল ‘নেগেটিভ’ আসলেই চলবে তাদের ক্ষেত্রে। তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ফেরাতে কতটুকু সফল হবে, সেটি সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়াটাই উচিৎ বোধহয় এখন। 

    অবশ্য ২২ জুন থেকে দ্বিতীয় দফা ২৪ জন ক্রিকেটার ও ৬ জন সাপোর্ট স্টাফকে নিয়ে অনুশীলনে ফিরছে তারা আপাতত। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ

    বাংলাদেশ (হোম, টেস্ট), জিম্বাবুয়ে (হোম, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), বাংলাদেশ (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে) 


    ওয়েস্ট ইন্ডিজ 

    ৯ জুন ইতিহাস গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কভিড-১৯ মহামারিতে থমকে যাওয়া ক্রিকেটবিশ্বে প্রথম আন্তর্জাতিক দল হিসেবে অন্য দেশে গিয়ে পৌঁছেছে তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ৩ টেস্ট দিয়েই ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। 

    এ সিরিজ ঘিরে শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ‘বায়া-সিকিউর’ ভেন্যুতে হবে তিন টেস্ট। 

    এর আগে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির মৌসুম আগেভাগেই শেষ করতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, ২ রাউন্ড বাকি থাকতেই তারা চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল বার্বাডোসকে। 

    এ সিরিজের পর নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আতিথেয়তা দেওয়ার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের, তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না। 

    ঘরোয়া মৌসুমের ক্ষেত্রে পরবর্তি টুর্নামেন্ট ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, সিপিএল। যেটি হওয়ার কথা আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। যে টুর্নামেন্ট শুধুমাত্র ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এরই মাঝে। ১৮ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মাঝে হতে পারে এই টি-টোয়েন্টি লিগ। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ

    দক্ষিণ আফ্রিকা (হোম, টেস্ট+টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, টি-টোয়েন্টি), নিউজিল্যান্ড (অ্যাওয়ে, টেস্ট) 


    কভিড-১৯ মহামারিতে সবকিছু থমকে যাওয়ার পর প্রথম দল হিসেবে আন্তর্জাতিক সফর করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডে পৌঁছেও গেছে তারা/ইংল্যান্ড ক্রিকেট


    জিম্বাবুয়ে 

    আইসিসির পূর্ণ সদস্য হলেও সারা বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার সুযোগ মেলে না জিম্বাবুয়ের। এ বছর হওয়ার কথা ছিল সেটি। তবে কভিড-১৯ ভেস্তে দিয়েছে এর অনেকখানি।  

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছে তারা, এরপর আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল তাদের। 

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি কিছুটা আশার আলো জোগাচ্ছে জিম্বাবুয়েকে, অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত সূচিতে আগস্টে হওয়ার কথা সে সিরিজ। আফগানিস্তানের সঙ্গে জুলাই-আগস্টে হওয়া কথা টি-টোয়েন্টি সিরিজ। 

    এরই মাঝে ৩৭ জন ক্রিকেটারকে আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ করে অনুশীলন শুরু করেছে জিম্বাবুয়ে, এর আগে তাদের পরীক্ষা করানো হয়েছে করোনাভাইরাসের। 

    এর আগে ঘরোয়া মৌসুম বাতিল ঘোষণা করেছিল জিম্বাবুয়ে, ১৮ মার্চ থেকে ক্রিকেট স্থগিত রাখা হয়েছে তাদের। 

    এফটিপিতে পরবর্তী সিরিজ

    অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে), শ্রীলঙ্কা (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি), পাকিস্তান (অ্যাওয়ে, ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি)

     
    বহুজাতিক টুর্নামেন্ট 

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ 

    বারকয়েক আলোচনার পরও এখনও এ টুর্নামেন্ট নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি আইসিসি। আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড-প্রধান বলেছেন, এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন ‘অবাস্তব বা খুব কঠিন’। নির্ধারিত সময়ে এ টুর্নামেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। শেষ বোর্ড মিটিং শেষে আইসিসি জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে হওয়ার কথা ১৬ দলের এ টুর্নামেন্ট। 

    ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়েছে, স্থগিত হয়েছে ২০২২ অ-১৯ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও ২০২৩ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আঞ্চলিক পর্যায়ের টুর্নামেন্টও। 

    উইমেনস বিশ্বকাপ

    পরের বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিউজিল্যান্ডে হওয়ার কথা মেয়েদের বিশ্বকাপ। তবে সেটির বাছাইপর্ব এরই মাঝে স্থগিত হয়ে গেছে, জুলাইয়ে যেটি হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। 

    এশিয়া কাপ 

    সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপের এবারের আসর। পাকিস্তান এবার আয়োজন না করে শ্রীলঙ্কাকে করতে বলেছে, এখন পর্যন্ত তথ্য এটি। শ্রীলঙ্কাও নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদি। তবে এখন পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নিশ্চিত করতে পারেনি কিছুই। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন