• বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ২০২০
  • " />

     

    ৩ দলের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ : যে চারটি দিকে নজর

    আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া সিরিজ শুরুর আগে আলাদা একটা ভাব থাকে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গ্রাউন্ডসম্যানদের তোরজোর, স্পন্সরদের সঙ্গে ব্রডকাস্টারদের। এদিন তোরজোর থাকলো ঠিকই, তবে একটু ভিন্নভাবে। ‘ব্রডকাস্টার’দের দেখা গেল, তবে সেটা ঠিক টেলিভিশন নয় বলে একটু ‘সীমিত পরিসরে’, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য। গ্রাউন্ডস্টাফরা মাঠ আর পিচ পরিচর্যার দিকেই বেশি নজর দিলেন, স্পন্সরের তো বালাই নেই তেমন। 

    প্রেসিডেন্টস বক্স ধোয়া-মোছা চলছিল, পরে বায়ো-সিকিউর বলয়ের অংশ হোটেলেই হয়ে গেল ট্রফি উন্মোচনও। সব মিলিয়ে একটা উৎসবের ভাব আনার ক্ষেত্রে বিসিবির চেষ্টার যে কমতি নেই-- তা বলাই যায়। অবশেষে যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরছে ঘরোয়া ক্রিকেট। জাতীয় দল, এইচপি দলের সদস্যদের নিয়ে তিনটি দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে, যেটির নাম বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সঙ্গে মাঠেও প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস দিয়ে রাখলেন ৩ অধিনায়কও। 

    বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ঘরোয়া ক্রিকেট ফেরার উপলক্ষ্যের সঙ্গে নজর থাকবে আরও যেসব ব্যাপারে… 


    অধিনায়ক তামিম কেমন করবেন? 

    মার্চে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ওয়ানডেতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তামিম ইকবালকে। তবে তামিমের অধিনায়কত্বের অপেক্ষা বেড়েছেই শুধু। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংককে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু এক রাউন্ডের পরই সে লিগও স্থগিত হয়ে আছে। পূর্ণমেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাই তামিমের দীর্ঘ পরিসরে অধিনায়কত্ব করা হয়নি এখনও। অনুমিতভাবেই ৩ দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের একটির অধিনায়ক তিনি। এর আগে জাতীয় দলকে একটি টেস্টসহ ৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তামিম। 

    “ক্রিকেটে ফিরে আসছি এটা চিন্তা না করে আমার কাছে মনে হয় এখান থেকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু পেতে পারি”, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছেন তামিম। “কারও যদি একটা ভালো টুর্নামেন্ট হয়, সে যদি খুব ভালো ব্যাটিং করে কিংবা বোলিংয়ে ভালো পারফরম্যান্স করে তাহলে তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খুলে যেতে পারে। এরকম যদি কোন তরুণ ক্রিকেটার থাকে তাহলে তাকে নিয়ে চিন্তা করতে পারে। এটা সবার জন্য একটা ভালো সুযোগ। এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করে নিজের জায়গাটা তৈরি করে নেওয়া। আমার কাছে মনে হয় না যে এটাকে কেউ একটা অনুশীলন ম্যাচ কিংবা সাধারণ একটা টুর্নামেন্ট বলে হিসেব করবে।”

    তার দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইচ্ছা, বলেছেন সেটাও। তবে এতকিছুর সঙ্গে আলাদা করে নজর থাকবে তো তার অধিনায়কত্বের দিকেও। 

    লেগস্পিন, লেগস্পিন, এবার তবে কী?  

    মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি বোলিং করছিলেন, ইয়াসির আলি রাব্বি ব্যাটিং। রাব্বি বড় বড় শটও খেললেন কয়েকটা যেমন, আবার ক্যাচও তুললেন। দুজন একই দলে, টুর্নামেন্ট শুরুর পর ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে লড়াইয়ে কতোখানি জিতবেন আফ্রিদি?

    লেগস্পিনারের সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটের সম্পর্কটা কেমন অদ্ভুত। টানে কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না টাইপের যেন। বিপিএলের শেষ আসরে প্লেয়ারস ড্রাফটের আগে বলা হয়েছিল, প্রতি দলে একজন করে লেগস্পিনার রাখা বাধ্যতামূলক। পরে আবার সেটি বদলে হয়ে গিয়েছিল একজন মানসম্পন্ন স্পিনার, যিনি লেগস্পিনার হলে ভাল। এরপর জাতীয় লিগে লেগস্পিনার খেলা না খেলা নিয়েও হয়ে গেছে বিতর্ক, দুই দলের কোচকে বরখাস্তও করা হয়েছিল লেগস্পিনার না খেলানোর কারণে। 

    বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে প্রতি স্কোয়াডেই একজন করে স্বীকৃত লেগস্পিনার আছেন-- মাহমুদউল্লাহর দলে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, নাজমুল হোসেন শান্তর দলে রিশাদ হোসেন, তামিমের দলে মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি। এদের মাঝে শুধু বিপ্লবেরই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। এ টুর্নামেন্টে লেগস্পিনারকে প্রতি ম্যাচে অন্তত কতো ওভার করাতে হবে, এমন একটা নিয়মের কথাও শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সে নিয়ম থাকবে কিনা, সে নিয়ে সংশয় থাকতে পারে, তবে লেগস্পিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা এবার কোনদিকে যায়, সে দিকে তো দৃষ্টি থাকবেই। 


    বিশ্বকাপজয়ীদের অন্য চ্যালেঞ্জ

    বিশ্বকাপজয়ী অ-১৯ দলের সবচেয়ে বড় ‘তারকা’ অথবা সে পথেই আছেন-- এমন ক্রিকেটার কে? এ দলে আলাদা করে কাউকে সে তকমা দেওয়া মুশকিল। সেটা অধিনায়ক আকবর আলি থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্টও বারবার বলে এসেছেন, এ দলের মূল শক্তিটা ছিল দলীয় পারফরম্যান্স, আলাদা করে কারও পারফরম্যান্স নয়। সেই আকবররা আরেকবার এসে পড়ছেন দৃশ্যপটে। 

    ৩ দল মিলিয়ে এ টুর্নামেন্টে অ-১৯ দলের আছেন ৯ জন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের পর প্রিমিয়ার লিগে এক রাউন্ড-- বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত খেলার সুযোগ পেয়েছেন সর্বোচ্চ দুটি করে ম্যাচই। এ টুর্নামেন্টের পর আবার এইচপির ক্যাম্পে যোগ দেবেন অ-১৯ দলের সাবেক হয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটাররা, তার আগে এই টুর্নামেন্ট তাদের আত্মবিশ্বাস ঝালাই করে নেওয়ার ভাল একটা সুযোগই। 


    এবং তাদের আরেকটি সুযোগ… 

    ২০১৮ সালের মার্চে শেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন তাসকিন আহমেদ। চোটের সঙ্গে নিত্য লড়াই চলে তার। কোভিড-১৯ মহামারিতে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন বেশ, তাকে দেখে জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও তার মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন। এর আগে আন্তঃস্কোয়াড প্রস্তুতি ম্যাচে লাল বলে উজ্জ্বলও ছিলেন তিনি। এবার পালা সাদা বলের। বেশ ফুরফুরে আছেন, ছন্দও দারুণ-- এ টুর্নামেন্ট তাসকিনের জন্য আলাদা একটা মঞ্চই বটে। 
     


    সাদা বলে কেমন করবেন তাসকিন?


    তাসকিনের মতো আরও কয়েকজন আছেন, যাদের কাছে জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে বার্তা দেওয়ার একটা উপলক্ষ্য তৈরি করে দিতে পারে এই টুর্নামেন্ট। ২০১৮ সালে শেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আরেকবার নজর কাড়তে পারবেন? 

    সাব্বির রহমান অবশ্য সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের পর খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কা সফরে, এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও। তবে আবার বাদ পড়েছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট সিরিজের জন্য ২৭ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডেও ছিলেন না তিনি, তবে এ টুর্নামেন্টে আবারও ডেকে পাঠানো হয়েছে তাকে। 

    সাব্বিরের মতো শ্রীলঙ্কা সফরে ছিলেন এনামুল হক বিজয়ও, খেলেছিলেন এক ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবারও বাদ পড়েছিলেন। ইমরুল কায়েসের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কমবেশি একই। জাতীয় দলে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকা এই ওপেনার শেষ খেলেছিলেন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট, তামিম ইকবাল নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ডাকা হয়েছিল তাকে। ওয়ানডেতে সর্বশেষ খেলেছিলেন তিনি ২০১৮ সালে।

    পেসার খালেদ আহমেদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অবশ্য চোটের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৯ ক্যারিয়ারের দুই টেস্টের শেষটি খেলেছিলেন। এরপর চোট তাকে বিরতিতে পাঠিয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য, শেষ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ডে ফিরেছিলেন। এরপর আর সবার মতো বিরতি, এ টুর্নামেন্ট একটা সুযোগ করে দিচ্ছে তার জন্যও। 

    ওপরের সবার জন্যই অবশ্য আছে আশার খবরও। বিসিবি প্রেসিডেন্টের কথা অনুযায়ী, স্কোয়াডে থাকা প্রত্যেকেই অন্তত দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। 


    বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ : ফিক্সচার, স্কোয়াড


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন