• ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ
  • " />

     

    ব্যাটসম্যানদের জন্য উইকেটে কিছু থাকা উচিত

    আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। এই টেস্টের আগে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত? হায়দরাবাদের উইকেটই বা কেমন আচরণ করবে? এই টেস্টে ভালো কিছু করার গুরুত্ব আসলে কতটুকু? প্যাভিলিয়নে বিশ্লেষণ করেছেন  ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল 


     

    দুই টেস্টে পার্থক্য অনেক

    তখন তো আমাদের জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না আমাদের। এর মধ্যে ১৭ বছর কেটে গেছে। ভারতে প্রথমবারের মতো যারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেই অনেকদিন ধরে টেস্ট খেলছে। এমনিতেই ওরা আমাদের প্রতিবেশী, প্রথম টেস্টের প্রতিপক্ষ হিসেবে এবারের টেস্টের গুরুত্ব আলাদা। আমাদের সময়ে ভারতের দলটাকে বলা হতো ড্রিম টিম। টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলী, দ্রাবিড়, শ্রীনাথের মতো ক্রিকেটার ছিল। কোহলির এই দলটাও দারুণ, গত বেশ কিছু দিন ধরে ওরা দুর্দান্ত খেলছে। মুশফিকদের কাজটাও খুব খুব কঠিন হবে।

     

    এবারও পরিকল্পনার অভাব

    যে কোনো দীর্ঘ সংস্করণের জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার। নিউজিল্যান্ড সিরিজেই দেখা গেছে, বাংলাদেশ দলে সেটার অভাব আছে। ভারতের সঙ্গে সিরিজটা মাত্র এক ম্যাচের, কিন্তু এই সিরিজেও আমি পরিকল্পনার ছাপ খুব একটা দেখিনি। ভারতের মাটিতে খেলার আগে আমাদের একজন স্পিন বোলিং কোচ দরকার ছিল। প্রস্তুতি ম্যাচেই দেখা গেছে, আমাদের স্পিনারদের ভারতের এ দল খুব ভালোমতোই খেলেছে। আমাদের মূল কোচ বা ফিল্ডিং কোচের ভূমিকা নিয়েও নিউজিল্যান্ডে প্রশ্ন ছিল। ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্বটা অনেক সময়ই ঠিকমতো বোঝেনি, ফিল্ডিংও খুব ভালো হয়নি। নিজেদের কাজটা আগে থেকে ঠিকঠাক বুঝে না নিলে এই ম্যাচে আমাদের জন্য খুব ভালো কিছু অপেক্ষা করবে বলে মনে হয় না। শেষ মুহূর্তে ইমরুল কায়েস চোটে পড়ল, ওর জায়গায় উড়িয়ে আনা হলো মোসাদ্দেক হোসেনকে। সৌম্য যদিও ভালো করছে, কায়েসের জায়গায় একজন স্পেশালিস্ট ওপেনারই নিয়ে আসা উচিত ছিল। এসব নিয়ে তো প্রশ্ন উঠছেই।

     

    জয়ের জন্যই খেলা উচিত

    নিজেদের মাঠে ভারত অনেক শক্তিশালী। কোহলি, পূজারাদের নিয়ে ওদের ব্যাটিং লাইন আপ দারুণ। সবচেয়ে বড় কথা, ওদের অশ্বিন ও জাদেজার মতো দুইজন স্পিনার আছে। অশ্বিন শুরুতে যেমন ছিল, গত বেশ কিছু দিনে আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এখানে আমি একটা ব্যাপার বলব, আগের চেয়ে পরিণত হওয়ায় ও মাথাও খাটাচ্ছে দারুণ। যেমন চার ইঞ্চি ব্যাটের কথা মাথায় রেখে সে অনেক সময়ই ছোট ছোট টার্নে ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করছে। তবে আমি আলাদাভাবে বলব জাদেজার কথা। অশ্বিন অবশ্যই দারুণ, তবে বাংলাদেশকে আসল পরীক্ষায় ফেলতে পারে জাদেজা। উমেশ যাদবও খুব একটা খারাপ নয়। তারপরও এটা ঠিক, ইংল্যান্ডের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে আমরা দুই টেস্টেই জিততে পারতাম। প্রথম টেস্টে কয়েকটা ব্যাপার একটু সেদিক হলেই ধবলধোলাই হয়ে যেতে পারত। ওরকম উইকেটে খেলা হলে আমাদের সুযোগও আছে। সাকিব, মিরাজ, তাইজুল ভালো করলে ওদের ব্যাটসম্যানদের কাজটাও খুব সহজ হবে না। নিউজিল্যান্ডে আমাদের স্পিনাররা ঠিক লেংথে বল করতে পারেনি, এখানে সেটা ঠিক করতে হবে। আর একটাই টেস্ট যেহেতু, এখানে অনেক কিছুই হতে পারে। আমি তাই বলব, বাংলাদেশের জয়ের জন্যই খেলা উচিত।

     

    উইকেট কি স্পিনারদের বধ্যভূমি হবে?

    আমার মনে হয়, ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যেরকম উইকেট ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে তার চেয়ে একটু অন্যরকম হতেও পারে। অবশ্যই ভারত আমাদের যতটা কম সময়ে হারানোর চেষ্টা করবে। তবে একটাই টেস্ট যেহেতু, খেলাটা পাঁচদিনে নেওয়ার জন্য স্পন্সর বা অন্যান্য দিক থেকেও একটা প্রচ্ছন্ন চাপ থাকতে পারে। সেদিক দিয়ে হয়তো ব্যাটসম্যানদের জন্য পিচে হয়তো কিছু থাকতে পারে বলে আমার মনে হয়।  

     

    দীর্ঘ মেয়াদে খুবই গুরুত্বপূর্ণ

    আপাতত মনে হতে পারে, একটা টেস্টে আসলে খুব বেশি কিছু যাবে আসবে না। তবে ভারতের সঙ্গে খেলা বলে এই টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ন। এই টেস্টে ভালো কিছু করলে অন্যদের জন্য সেটি বড় একটা বার্তা হয়ে যাবে। এই বছর বাংলাদেশের বোধ হয় আরও কিছু টেস্ট খেলার কথা, সেটার জন্যও কাজে দেবে। কে জানে, সামনে হয়তো বাংলাদেশের সামনে আরও বেশি টেস্টের সুযোগও চলে আসবে।