• নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ
  • " />

     

    এবার আর ভুল দল নিয়ে পার পেলাম না

    একের পর এক চোটে বাংলাদেশ দলের অবস্থা এখন শোচনীয়। তবে ক্রাইস্টচার্চের দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ কেমন হওয়া উচিত? এই ব্যাটিং লাইন আপ থেকে কতটুকু আশা করা যায়? ক্রাইস্টচার্চের উইকেটই বা কেমন আচরণ করবে? প্যাভিলিয়নে বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল 


    ভাঙাচোরা দলের ওপরেই আস্থা আছে

    আসলে শেষের দিকে এসে ভাগ্য যেন আমাদের পক্ষে নেই। দলটা একেবারেই ভাঙাচোরা মনে হচ্ছে। মুশফিক ও ইমরুলের চোটটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক বলতে হবে, দলের জন্য এটা বড় একটা আঘাত। আর মুমিনুল তো শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ করে নেই। এসবের ওপর তো কারও হাত নেই, তবে কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে। আমাদের নির্বাচক, কোচ মিলে দলটা বাছলেন, সেখানে কোনো বাড়তি ওপেনারকে রাখা হয়নি। সৌম্য তো টেস্টে কখনো ওপেনই করেনি, কিন্তু এখন ওকে নাময়ে দিতে হচ্ছে। মিডল অর্ডারে আমাদের কোনো ব্যাক-আপ খেলোয়াড়ও নেই। এর আগে অনেক বার আমরা ভুল নির্বাচন নিয়েও পার পেয়ে গেছি, তবে এবার আর সেটা হয়নি। তারপরও আমি বিশ্বাস, এই ভাঙাচোরা দল নিয়েই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি। আমাদের মনোবল হয়তো তলানিতে, তবে সেটা নিয়েই আমাদের খেলতে হবে। যার যে দায়িত্ব, সেটা পালন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।

     
    আমাদের মনোযোগ ক্রিকেটে ফেরাতে হবে

    ক'দিন ধরেই খবরের কাগজে দেখতে পাচ্ছি, কোচ হাথুরুসিংহে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে একটু মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কোচ মনগড়া ব্যাখ্যাও নাকি দিচ্ছেন। আমার কাছে সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছে, আমরা ঠিক খেলার মধ্যে নেই। প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন টি-এর পর থেকেই যেন আমাদের খেই হারিয়ে ফেলার শুরু। আমাদের সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও খেলায় মনোযোগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেউই আসলে অপরিহার্য নয়। চোটের কথাটা মাঠে নামার সময়ই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। প্রথম থেকেই দলের সঙ্গে আমরা ভুল সংখ্যার খেলোয়াড়কে রেখেছি। আমরা যখন এতজন খেলোয়াড়কে এত বেশি সময় ধরে দলের সঙ্গে রেখেছি, তাদের আর কিছুটা সময় দলের সঙ্গে রাখলেই তো হতো! এক্ষেত্রেও ভুল পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে আমি বলব। 


    উইকেট হবে পেসারবান্ধব

    ক্রাইস্টচার্চের উইকেটে স্পিনাররা একদমই সাহায্য পাবে বলে মনে হয় না। এই উইকেটে সাধারণত পেসাররাই বেশি সাহায্য পেয়ে আসবে। তার ওপর নিউজিল্যান্ডের পেসাররাও শর্ট বল পিচে আমাদের দুর্বলতার কথা জেনে গেছে। অতএব ওরা এই ব্যাপারটা টার্গেট করেই নামবে। তবে ওয়েলিংটন টেস্টের আগে সবুজ উইকেট দেখেও কিন্তু আমরা ভড়কে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছোটখাটো কয়েকটা ভুল ছাড়া আমরা খুব একটা খারাপ খেলি নি। এখানেও আমাদের নিজেদের সহজাত খেলাটাই খেলতে হবে। মানসিক দিক দিয়েই আমাদের জন্য বেশি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। 


    তাসকিনের বদলে রুবেল আসুক

    আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রথম ইনিংসে আমাদের তিন ফাস্ট বোলার কোনো চাপ ছাড়াই বল করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে চাপের মুখে বল করতে গিয়েই ভজঘট বাঁধিয়ে ফেলেছে। এখানে আমি বলব, পেস বিভাগে পরিবর্তন আনতে হলে তাসকিনকে বাদ দিয়ে রুবেলকে নেওয়া যেতে পারে। আমি আপাতত এই একটা পরীক্ষা করার পক্ষে। আর পিচ যেমনই হোক না কেন, মিরাজ অবশ্যই খেলবে। 


    সবকিছুর জন্য ওই পরিকল্পনার অভাবই দায়ী

    দেখুন, চোটের ওপর তো কারও হাত নেই। কিন্তু কয়েকটা ছোটখাটো ব্যাপার তারপরও মাথায় রাখতে হবে। এই নিউজিল্যান্ড সিরিজটা হবে সেটা আমরা বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু আফগানিস্তান, ইংল্যাণ্ডের পর বিপিএলেও কেউ দম ফেলার সময় পাইনি। এরপর নিউজিল্যান্ডের আগেও কোনো বিশ্রাম নেই। বিপিএলের প্রতিটা ম্যাচে বোর্ড কর্তাদের আনাগোনা দেখা যায়। অথচ ক'দিন আগেই আমাদের যে জাতীয় লিগের ম্যাচ হলো, সেখানে তো কাউকে দেখা যায় না। তার মানে আমাদের ক্রিকেটে গুরুত্বটা কোনদিকে সেটা আলাদা করে বলার আর দরকার নেই।   


    তামিমকে প্রমাণ করতে হবে

    দ্বিতীয় টেস্টে তামিমের অধিনায়কত্ব, ওর বোলারদের ব্যবহার কিন্তু আমার খুব পছন্দ হয়নি। তবে এবার ওর পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে, এখানে ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে। আমার কাছে মনে হয়, এই টেস্টে অবশ্যই ওর আগে টসে জিতলে ব্যাটিং নেওয়া উচিত। এরপর বাকিটা সময়ই বলে দেবে। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন