• নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ
  • " />

     

    নিজের ভূমিকাটা না জানলে দলে থাকা উচিত নয়

    অশনী সংকেতটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো, দুঃস্বপ্নের শেষ দিনে নিশ্চিত ড্র ম্যাচটা হেরে বসল বাংলাদেশ। কিন্তু কেন এমন হয়েছে? দ্বিতীয় ইনিংসে কেন বারবার খেই হারাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা? শেষ দিনে কি আদৌ কি পরিকল্পনা ছিল? আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেই দিনটাকে দেখার চেষ্টা করেছেন আতশ কাচের নিচে 


     

    সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছে নিউজিল্যান্ড
    ঘটনাবহুল একটা টেস্ট হলো। একটা ব্যাপার, একবারের জন্যও বাংলাদেশ জয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ড একবার সুযোগ পেয়েছে, এরপরেই সেটা কাজে লাগিয়েছে। আর অনেকেই হয়তো বলবে, এই টেস্ট শুরুর আগে এতদূর আসতে পারলেই আমরা বর্তে যেতাম। তবে আমি বলব, এরকম মানসিকতা আমাদের মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। এই টেস্টে আমরা শেষ পর্যন্ত হেরেছি, এটাই শেষ কথা। 


    মুশফিক-ইমরুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে
    বাংলাদেশ দল ওয়ানডে-টি টোয়েন্টির পর সেভাবে বিরতি পায়নি। পাঁচদিনের টেস্টে এসে ফিটনেসের সঙ্গে ক্লান্তির ব্যাপারটাও তাদের প্রবলভাবে জেঁকে ধরেছে। শেষদিকের এত ইনজুরির এটাও একটা কারণ হতে পারে। তারপরও মুশফিক-ইমরুল যা করেছে, তার জন্য আমি ওদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটা আসলে দলের সবার জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। 


    টেলর-উইলিয়ামসনই ছিল পার্থক্য
    উইলিয়ামসন ও রস টেলর ভেঙে পড়লে খেলাটা অন্যরকম হতে পারত। সেই জায়গাটা সাকিব, মুমিনুলের অনেক কিছু শেখার আছে। ওরা সুযোগটা নিতে জানে, আমরা সেটা পেয়েও হাতছাড়া করেছি। পাঁচদিনের ম্যাচ থেকে এরকম অনেক কিছু শেখার আছে।


    ফাস্ট বোলিং অগভীরতা বোঝা গেছে
    ফাস্ট বোলিং যে কতটা দুর্বল সেটা আজকে আবার দেখা গেল। তাসকিন যেমন অনেকটাই এলোমেলো ছিল। শুভাশীষ, রাব্বিও দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞতার অভাবটা বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনজনের কেউই খুব ভালো নয়, আবার খুব খারাপ নয়। কিন্তু আজকে পরিস্থিতি যেরকম দাবি করেছিল, তার জন্য এই তিনজন আসলে তৈরি ছিল না।


    অভিজ্ঞতার অভাব খোঁড়া অজুহাত
    একটা কথা, সবাই বলছে বিদেশের মাটিতে অভিজ্ঞতার অভাব বা কম টেস্ট খেলার কারণে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে বার বার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আমার কাছে এই ব্যাপারটা ধোপে টেকে না। বাংলাদেশ দল নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়না ঠিক, কিন্তু সাকিব-তামিমরা তো অনেক দিন ধরেই খেলছে, নিউজিল্যান্ডেও আগে খেলে গেছে। সেখানে তাদের অভিজ্ঞতার অভাবের অজুহাতটা মেনে নেওয়া কঠিন। উইলিয়ামসন তো তাদের পরে অভিষেক হয়েছে, কিন্তু ম্যাচটা কী দারুণভাবে বের করে নিল। 


    নিজের ভূমিকাটা ভুলে গিয়েছে সাকিব
    সাকিব কিন্তু একই ধরনে টি-টোয়েন্টি, টেস্ট না ওয়ানডে খেলল। আজকে ওর ভূমিকাটা ছিল উইকেট ধরে রাখার। আমি কাল বলেছিলাম, সাকিবের খেলার ধরনটা বদলাতে হতে পারে। কিন্তু আজ সে এই কথাটাই পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিল। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় যখন নিজের ভূমিকা সম্পর্কেই ধারণা রাখে না, তাহলে তাকে নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলা উচিত। 


    কোনো পরিকল্পনা দেখতে পাইনি
    আরেকটা ব্যাপার, আজকের দিনের আগে যে পরিকল্পনার দরকার ছিল, তার কোনো ছাপই দেখতে পাইনি। এখানে কোচেরও একটা বড় দায় আছে। কার ভূমিকা কী হবে, এসব এই ইনিংসের আগে অবশ্যই পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। কিন্তু মিরাজ নাইটওয়াচম্যান হয়ে যেভাবে রান নিতে গেল বা সাকিব যে শট খেলল- তাতে হয় ওরা কোচের পরিকল্পনাটা ভুলে গিয়েছিল, অথবা আদৌ কোনো পরিকল্পনাই হয়নি। 


    কেউই দলে অপরিহার্য নয়
    এই টেস্ট থেকে বড় শিক্ষা, একটা খারাপ সেশনই, এমনকি আধ ঘন্টা খারাপ খেললেই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। আর ব্যাটসম্যানদের নিজেদের ভূমিকাটা বুঝতে হবে। কখন ধরে খেলতে হবে, কখন ব্যাট চালিয়ে খেলতে হবে, সেই উপলব্ধি হওয়া উচিত। আবার যখন সেটা আসে, তখন দেখা যায় অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমার মতে, কেউ যদি নিজের ভূমিকাটা না বুঝে খেলে যায়, তাহলে তাকে দলে রাখার ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত। সেটা যত বড় খেলোয়াড়ই হোক না কেন। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন