• ফুটবল

ইমানোল আলগুয়াচিল; নতুন আর্সেন ওয়েঙ্গার?

পোস্টটি ২৬৭ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

CollageMaker_20210511_013945282ইমানল আলগুয়াচিল, নতুন আর্সেন ওয়েঙ্গার?

 

আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই সর্বজয়ী আর্সেনাল কে মনে আছে? একটাও ম্যাচ না হেরে প্রিমিয়ার লীগ জিতে নিয়েছিলো যারা। একদল অসাধারণ স্কিলফুল খেলোয়াড়ের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিলো ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু কেমন খেলতো সেই দল, কীই বা ছিলো কোচ আর্সেনের ফিলোসোফি, তার মতো কি কেউ খেলায় না এখন? সেটাই জানবো আজকে। 

 

ফুটবলে কোচিং দর্শনে রয়েছে অনেক প্রকার ভিন্নতা। ভিন্ন ভিন্ন যুগে অনেকেই বদলে দিয়েছেন এই খেলাটা কিভাবে খেলা উচিত, অনুপ্রাণিত করেছেন তার পরের প্রজন্মকে। তাইতো আমরা খুঁজে পাই ক্রুইফের ঘরানার গার্দিওয়ালাকে, নাগলসম্যান এর মাঝে "বেবি মোরিনহোকে"। তেমনি রিয়াল সোসিয়েদাদ কোচ ইমানল আলগুয়াচিল এর মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়, আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই সর্বজয়ী দলের খেলার ধরণ।

 

আর্সেন ওয়েঙ্গার এর দলের সাধারণ ফর্মেশন ছিলো ৪-৪-২ ওয়াইড। যেখানে একদম গোলকিপার থেকে দলের বিল্ডাপ প্লে শুরু করা হতো। দলের জার্মান কিপার, লেহম্যান ছিলেন বল প্লেয়িং এ পারদর্শী। দলে ছিলো বল প্লেয়িং এ পারদর্শী ১১ জন প্লেয়ার। যারা খুব দ্রুত বল মুভ করতে পারতো, শুধু ফরোয়ার্ড পাসিং এই না, সাইডওয়ে পাসিং এও তারা যথেষ্ট মোবিলিটি দেখাতো। দুইজন সিবি দ্রুত উপরে উঠতো, ফাস্ট ডিস্ট্রিবিউট করতো বল আবার নেমে আসতো, বিশেষ করে কলো তোরে বল ডিস্ট্রিবিউটর ছিল আর সোল ক্যাম্পবেল ডিফেন্সিভ সলিডিটি দিতো। 

ডিপ মিডে থাকা ২জন, জিলবার্তো সিলভা আর ভিয়েরার মধ্যে, জিলবার্তো ডিফেন্স লাইনের কাছাকাছি সরে গিয়ে এক্সট্রা পাসিং লেন সৃষ্টি করতো আর ভিয়েরা তার পজিশন মেইনটেইন করতো কাউন্টার এটাক ঠেকানোর জন্য।২ ফুলব্যাক লরেন আর কোল দুইজনই নিয়মিত উপরে উঠতো আর নিচে নামতো। যে কারণে আর্সেনাল এর সাথে গোল স্কোর করা ছিল দুঃসাধ্য।  

 

এটাকের সময় যে ফর্মেশন ৪-২-৩-১ হয়ে যেতো। ২জন ওয়াইড মিডফিল্ডার এর রোল ছিলো ভিন্ন,  রবার্ট পিরেজ যেখানে বেশি এটাকিং রোল প্লে করতো। দলের আক্রমণের সময়, ২ এটাকার অঁরি আর বার্গক্যাম্প এর সাথে যোগ দিতো পিরেজও,  যার কারণে ওই সিজনে পিরেজ ১৪ গোল আর ১০ এসিস্ট করেন। অপর দিকে লুনবার্গ একটু নিচে থেকে চান্স ক্রিয়েশন আর ডিফেন্সিভ ডিউটি মিলে পারফেক্ট বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার এর রোল প্লে করতো।  আর্সেনের দলের ২ এটাকার ও বেশ ইন্টারেস্টিং রোল প্লে করতো। ডেনিস বার্গক্যাম্প স্ট্রাইকার এর চেয়ে নাম্বার ১০ রোলেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন, অপোজিশনের হাফ স্পেসে, তাদের গ্যাপ এক্সপ্লয়েট করার রোলে। আর ফ্রন্টম্যান থিয়েরি অঁরি সমসাময়িক যেকোনো স্ট্রাইকার এর চেয়ে বেশি স্কিলফুল ছিলেন, টার্গেট ম্যান হওয়ার পাশাপাশি কাউন্টার এটাকে গোলের সুযোগ তৈরি তেও ছিলেন পারদর্শী।

 

এবার আসি লালীগার দল রিয়াল সোসিয়েদাদ ম্যানেজার ইমানোল আলগুয়াচিল এর প্লেয়িং স্টাইল নিয়ে।ওয়েংগার এর মতো ইমানোল ৪-৪-২ তে খেলান না দলকে, তার বদলে ৪-১-৪-১ এ দল সাজান, যেখানে ডিএম রোলে ইলারামেন্ডি, আর্সেনাল এর জিলবার্তোর মতো ডিফেন্স লাইনে প্রহরা দেন। দলের প্রয়োজনে ডিফেন্স লাইনে নেমে আসা মিকেল মেরিনো অবশ্য ২০০৪ এর ভিয়েরা থেকে অনেক এটাকিং,  দলের এটাকে ফাইনাল থার্ডেও বেশ সাচ্ছন্দ্য মেরিনো। ২ ওয়াইড মিডফিল্ডার রোলে, ডেভিড সিলভা যেমন অপেক্ষাকৃত বেশি সেন্ট্রালি অপারেট করে, অন্যদিকে মিকেল ওয়ারজাবাল ওয়াইড থেকে ডি-বক্সে উঠে আসতে পারেন। আর্সেনাল এর পিরেজ এর মতোই গোল এসিস্টে পারদর্শী মিকেল। ২ন্ড স্ট্রাইকার রোলে ইমানোল খেলান পোর্তুকে আর টার্গেট ম্যান রোলে এই সিজনে নিয়মিত মুখ আলেক্সান্ডার আইজাক। এখানেও ওয়েংগার এর টিম এর বার্গক্যাম্প এর মতোই পর্তু হাফ স্পেসে নেমে বল রিসিভ করে।

 

এতো এতো সাদৃশ্য দেখে মনে হতেই পারে, ইমানোল আলগুয়াচিল বোধহয় আর্সেন ওয়েঙ্গারের শিষ্য। আর্সেন ওয়েঙ্গার যাওয়ার পর আর্সেনালের ভগ্নদশা চলছে, হয়তো তার মতো কেউই আর্সেনাল ডাগ আউটে তার জায়গাটা নিতে পারবে।CollageMaker_20210511_013945282