• ক্রিকেট

পঞ্চম বোলার থাকলে ম্যাচটা অন্যরকম হতে পারত

পোস্টটি ৯৬৫৯ বার পঠিত হয়েছে

আরও একটি টি-টোয়েন্টিতে হার, নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন চলছেই। কিন্তু ১৯৬ কি বাংলাদেশের জন্য একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল? সাব্বির-সৌম্য আরো কিছুক্ষণ থাকলে কি ফলটা অন্যরকম হতে পারত? আরেকজন বাড়তি বোলারের অভাব কতটা বোধ করেছে বাংলাদেশ? দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর এসব বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল । 


১৯৬ রানের লক্ষ্য কি বেশিই ছিল? 

রান তাড়া তো এমনিই কঠিন। তবে আমি বলব, নিউজিল্যান্ড আসলে ২০-৩০ রান বেশি করে ফেলেছে। টি-টোয়েন্টিতে আসলে মাঠ যত ছোটই থাকুক, বা উইকেট যেমনই হোক, ওভারপ্রতি ১০ রান করে নেয়া একটু কঠিন। সেখানে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ আসলে এক-দুই ওভারে অতিরিক্ত রান দেওয়ার মাশুলটাই শেষ পর্যন্ত দিয়েছে। একটা সময় অবশ্য সাব্বির- সৌম্য রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই রান তুলছিলেন। তারপরও আমি বলব, ওই গতিটা পুরো ম্যাচে ধরে রাখা কঠিনই ছিল। ১৯৫ রান বাংলাদেশের জন্য তাড়া করে জেতার জন্য একটু বেশিই। মিরাকল কিছু হলে হয়তো হত।

 

লম্বা ইনিংসের অভাব

টি-টোয়েন্টিতে আসলে বড় স্কোর তাড়া করার জন্য দুই ধরনের ইনিংস লাগে। কয়েকটা ছোট ছোট বিস্ফোরক ইনিংস তো আছেই, কিন্তু একপাশ থেকে একজনকে একটু বেশি সময় থাকতে হয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে আজ কলিন মানরো যে কাজটা করেছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখবেন, ও কিন্তু সব বলেই মারতে যায়নি। কয়েকটা ওভারেই সে আসলে টার্গেট করে মেরেছে। মানরোর কাজটা আমাদের মধ্যে সাব্বির বা সৌম্যের করার কথা ছিল। কিন্তু ভালো শুরু করেও দুজন আসলে খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি।

 

শর্ট নির্বাচনে মনযোগ

সাব্বিরের ক্ষেত্রে আমার যেটা মনে হয়েছে, ওর মানরোর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে। বল তার ব্যাটে আসছিল ভালোভাবেই, সে খেলছিলও ভালো। কিন্তু তার মানে এই নয়, প্রতি বলেই মারতে হয়। বিপিএলে রাজশাহীর হয়ে ওর একটা সেঞ্চুরি ছিল। অনেকেই বলেছেন, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশী কারো সেরা ইনিংস সেটি। কিন্তু এরপর কিন্তু সেটার কাছাকাছিও যেতে পারেনি। আমার মনে হয়, শট নির্বাচনে ওকে আরও বেশি মনযোগী হতে হবে। ও যদি মনে করে, ওরকম ইনিংস প্রতিদিন হয়ে যাবে সেটা ভুল। আর উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও একটা ব্যাপার আছে।

 

সৌম্যকে নিয়ে এখনই উচ্ছ্বাস নয় 

সৌম্য আজকে ভালো খেলেছে, কয়েকটা শট দারুণ ছিল। তবে আমি এখানেই উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। এতগুলো ইনিংস খেলার পর ৩৯ রান করায় আমি খুব বেশি তৃপ্তির জায়গা আছে বলে মনে করি না। বরং ওই সময় ওর আরও বেশি সময় উইকেটে থাকার কথা ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়েই কিন্তু সে আউট হয়ে গেছে। একটা ইনিংস দেখেই আসলে বলা মুশকিল, ওকে আরও ধারাবাহিকভাবে রান করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, সাকিব একভাবেই খেলছে। নিজের ভূমিকাটা আমার মনে হয় এখনও সে বুঝে উঠতে পারছে না।

 

ফিটনেসের সঙ্গে বোঝাপড়ারও অভাব 

বাংলাদেশের রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের দৈন্যদশার দুইটি কারণ। একটা হচ্ছে ফিটনেস, আরেকটা হচ্ছে যোগাযোগহীনতা। আমার মনে হয়েছে, ব্যাটসম্যানরা নিজেদের মধ্যে সেভাবে কথা বলছে না। তামিমের আউট সে কথাই বলে। আর ফিটনেসের দিক দিয়েও তারা পিছিয়ে আছে। যেমন দেখুন মাশরাফি যে রান আউট করেছিল ওটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউট হয়নি। অথচ বাংলাদেশের কেউ হলে আমি নিশ্চিত তারা ঠিক সময়ে ক্রিজে ঢুকতে পারত না। আমি বলব, এই জায়গায় কোচেরও অনেক কিছু করার আছে। এই পর্যায়ে এসে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের এমন অবস্থা খুবই দুঃখজনক।

 

বোলিংয়ে পরিকল্পনা ছিল না 

আমার কাছে মনে হয়েছে, বোলারদের ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। স্পিনার যখন এসেছে, সব স্পিনার একসাথে এসেছে। আবার পেসাররা যখন এসেছে, তখন শুধু তাদেরকেই বল করানো হয়েছে। আজকের উইকেটে স্পিনারদের আরও বেশি ভালো করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা বেশি শর্ট বল দিয়েছে। পুরো সিরিজেই স্পিনারদের লেংথে গোলমাল ছিল। একটা জায়গায় বল না ফেলে তারা পুরো উইকেটে বিক্ষিপ্তভাবে বল ফেলে গেছে। এ জায়গায় আরও কাজ করা উচিত।

 

পঞ্চম বোলার অভাবটা ভুগিয়েছে

আজকেও আমি বলব, দল নির্বাচনটা ঠিক হয়নি। একজন ব্যাটসম্যান কমিয়ে অবশ্যই বাড়তি একজন বোলার খেলানো উচিত ছিল। আজ কিন্তু যে দুজন অনিয়মিত বোলার বল করেছেন, ওই চার ওভারেই কিন্তু ৫৪ রান এসেছে। সেখানে মিরাজের মতো কাউকে খেলানো হলে অবশ্যই পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতে পারত। 

 

মানসিকতা চাঙা রাখতে হবে

এই সিরিজে এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই বাংলাদেশের পক্ষে ঠিকঠাক যায়নি। তবে আমি বলব, একটা জয়ই দলকে বদলে দিতে পারে। শেষ ম্যাচে জয় পেলে সেটা টেস্ট সিরিজের জন্য টনিকের মতো কাজে আসতে পারে। দলে বেশ কিছু সমস্যা আছে, কিন্তু সেটা সব দলেই থাকে। শেষ ম্যাচে আমাদের নিজেদের শক্তির জায়গাতে তাই জোর দেওয়া উচিত।