• ক্রিকেট

আমাদের পাঁচজন জেনুইন বোলার খেলানো উচিত

প্রথম ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ কিছুটা কোণঠাসা। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আত্মবিশ্বাসী, দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। তার আগে মুশফিকের চোট, সৌম্যর রানখরা, দলে কোচের ভূমিকাসহ কথা বলেছেন দলের আরও অনেক কিছু নিয়ে... 


মুশফিকের চোট কতটা ভোগাবে?

এখানে একটা কথা বলে নেওয়া উচিত, আমাদের একটা সেট টিম হয়ে গেলে সেটা নিয়েই আমরা পড়ে থাকি। সেট টিমের বাইরে আমাদের যে প্ল্যান-বি নেই, সেই প্রমাণটাই আমরা দিতে চলেছি। মুশফিক আমাদের অটোমেটিক চয়েস, কিন্তু চোট তো হতেই পারে। কিছুদিন আমরা সুযোগ দিয়েছিলাম লিটন দাসকে। এখন আবার সে দলে নেই। মুশফিকের বিকল্প হিসেবে আমাদের দেড় বা দুইজন খেলোয়াড় লাগবে। সে আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, উইকেটকিপারও। একদিনের উইকেটে অবশ্য ৩০০ বলের মধ্যে ২০০-২৫০ বল ব্যাটসম্যান খেলে, ৫০টা বল হয়তো উইকেটকিপার ধরে। সেদিক দিয়ে ব্যাটিং-কিপিংয়ের কাজটা সোহান কতটা ভালোভাবে চালিয়ে নিতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।

 

সৌম্যর কি আরেকটা সুযোগ পাওয়া উচিত?

মনে রাখতে হবে, দলটা প্রথম নির্বাচন করে নির্বাচকেরা। ১৪ জনের পর মূল একাদশে বড় ভূমিকা রাখার কথা অধিনায়কের। কিন্তু এখানে কিন্তু আমরা অধিনায়ককে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। কার সময় কখন শেষ হচ্ছে, সেটা বলার জন্য কোচ উপযুক্ত লোক নন। তাঁর কাজ কোচিং করানো, আর নির্বাচনে সাহায্য করা। কোচের এরকম সরাসরি সিদ্ধান্ত না দেওয়াই ভালো। আর খেলার আগে কোনো খেলোয়াড় সম্পর্কে এরকম কথা বললে সেটা তাঁর আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলতে পারে। আর সৌম্যকে যদি কাল না খেলানো হয়, তাহলে সেটার বড় কারণ হবে টিম কম্বিনেশন। নেলসনের কন্ডিশন হয়তো বাড়তি একজন স্পিনার দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে হয়তো মিরাজ ঢুকতে পারে।

 

নেলসনের মাঠ কি বাড়তি প্রেরণা?

নেলসের মাঠে কী হবে, সেটা আসলে বলা কঠিন। নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ড তো নিজেদের মতো করে উইকেট বানাতেই চাইবে। কালকের কন্ডিশন কী হবে, সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। এই মাঠেও আমি সবসময় জেনুইন পাঁচটা বোলার নেওয়ার পক্ষে। এই মাঠে আমাদের ভালো একটা সুখস্মৃতি আছে। সেদিক দিয়ে দল হয়তো বেশি চাঙা থাকবে। আর বাংলাদেশ দল বেশ পরিপূর্ন একটা দল। একটা ম্যাচ হেরে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সেদিক দিয়ে আমি বলব, বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে। নেলসনের আগের স্মৃতি অবশ্যই মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে এগিয়ে রাখবে, তবে মাঠের খেলাটা একেবারেই আলাদা। উইকেটটা অবশ্যই নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা বেশি ভালো পড়তে পারবে।

 

মুস্তাফিজ ছন্দে ফিরতে পারবেন?

মাত্রই মুস্তাফিজ বড় ইনজুরি থেকে ফিরে এসেছে। এখনো আগের গতিতে বল করতে পারেনি। গত দুই দিনে তার বিশ্রাম কতটকু হয়েছে, কতটুকু সেরে উঠেছে সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সে আমাদের বোলিংয়ের জন্য ট্রাম্পকার্ড। যখন রান আটকানো দরকার, সেটা সে আটকাচ্ছে। যখন উইকেট দরকার, সেটাও সে এনে দিচ্ছে। আশা করছি মুস্তাফিজ গত ম্যাচে যেমন বল করেছে, এই ম্যাচে খেললে তার চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বল করতে পারবে।

 

ডেথ ওভারের বোলিং কি দুশ্চিন্তা?

শেষদিকে আপনি কয়টি উইকেট নিতে পারবেন, সেটার ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে। গত ম্যাচে আমরা এই কাজটাই করতে পারিনি। আর আরেকটা ব্যাপার, তাসকিনের বোলিং দেখে আমার মনে হয়েছে ও একটু তাড়াহুড়া করছে। আমার মনে হয়, সময় নিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলা উচিত।

বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে, সেই প্রমাণ তারা আগেও দিয়েছে। ইংল্যান্ডের সঙ্গেও প্রথম ম্যাচ হারের পর সেটা করেছিল। তবে প্রথম ম্যাচে দলকে একটু ক্লান্ত মনে হয়েছিল। ভ্রমণক্লান্তি বা খেলার ধকল- যে কারণেই হোক, পরের ম্যাচে আশা করি সেটা দেখা যাবে না।


আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অন্যান্য লেখা 

মাশরাফির ভুল যেন মুস্তাফিজে না হয়

জেতার তীব্র ইচ্ছাটা আমি দলের মধ্যে দেখিনি