X
GO11IPL2020
  • ফুটবল

একজন এডি হাউ

পোস্টটি ১৬৪৮ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এডি হাউ বিশ্বমঞ্চ তো দূরে থাক, নিজের দেশ ইংল্যান্ডেই কোনোদিন তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়টাই কেটেছে তৃতীয় বিভাগে, দ্বিতীয় বিভাগে মাত্র দুইবার মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। কোচ হিসেবেও হালের গার্দিওলা, ক্লপ কিংবা জিদানগোছের কেউ নন, বার্নলির দুই বছর বাদ দিলে বোর্নমাউথের ডাগআউটেই কেটেছে বিয়াল্লিশ বছরের এই “তরুণ”-এর সময়। আর পাঁচ বছর প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার পর গত মৌসুমে তাঁর অধীনেই তো বোর্নমাউথ অবনমিত হয়ে গেলো। তাহলে এই “অখ্যাত” এডি হাউকে নিয়ে মাতামাতি করার কী আছে? একবার দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর বোর্নমাউথের অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করে দেখুন না? তাঁদের কাছে এডি হাউ একজন স্বপ্নদ্রষ্টা – যিনি প্রিয় ক্লাবকে খাদের কিনার থেকে বাঁচিয়ে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। একজন এডি হাউ না থাকলে বোর্নমাউথ এএফসির কথা কয়জনই না জানতো?

https://www.thesun.co.uk/

আগাগোড়া বোর্নমাউথের লোক হলেও হাউয়ের জন্ম কিন্তু ১০৭ মাইল দূরের ছোট্ট শহর অ্যামারশ্যামে। হাউয়ের মা অ্যান ছিলেন “সিঙ্গেল মম”, পাঁচ সন্তানের খরচ যোগাতে দিন-রাত খাটতে হতো তাঁকে। টানাটানির সংসারে ভাই-বোন আর মায়ের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা এডির চাহিদা ছিল নিতান্তই সামান্য। স্কুলে “ভদ্র বাচ্চা” হিসেবে সুনাম ছিলো, মুখচোরা ছেলেটা নিজের মতো করেই থাকতে ভালোবাসতো। অ্যামারশ্যামে ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেট বেশি জনপ্রিয় ছিল, তাই বলে লাথি মারার পাশাপাশি উইলো কাঠের বিদ্যেটাও ভালোই রপ্ত করে নিয়েছিল ছোট্ট এডি। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর সম্ভাবনা দেখে ডরসেট কাউন্টি ক্লাব তো তাঁকে দলেই টানতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী শহর থেকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পর্যটকবান্ধব শহর বোর্নমাউথকে যখন বাসা বাঁধল হাউ পরিবার, এডির জীবনটা পুরোপুরি পাল্টে গেলো। ইংলিশ চ্যানেলের তীরে বালুকাবেলায় ফুটবল খেলাটাই বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠল এডির কাছে, স্থানীয় ক্লাব রসগার্থ আর পারলি স্পোর্টস হয়ে অবধারিতভাবেই বোর্নমাউথে যোগ দিলো এডি। ঘটনাটা ১৯৯৪ সালের, এডি হাউ তখন সদ্য কৈশোর পেরেনো এক তরুণ। সেই বছরেই অভিষেক, এরপর টানা আট বছর তৃতীয় বিভাগের দলটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেলেন এই বল প্লেয়িং সেন্টারব্যাক। ২০০২ সালে  দ্বিতীয় বিভাগের দল পোর্টসমাউথের কোচ এলেন হ্যারি রেডন্যাপ, ৪ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে হাউকে দলে ভেড়ালেন তিনি। কিন্তু অভিষেকেই হাঁটুতে চোট পেলেন হাউ, ২০০১-০২ মৌসুমের বাকিটা মাঠের বাইরেই কাটাতে হলো তাঁকে। পরের মৌসুমের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৯ মিনিট খেলার সেই হাঁটুতেই আবার চোট পেলেন তিনি। বাঁ হাঁটুর মাইক্রো ফ্র্যাকচার দেখে চিকিৎসক ঘোষণা দিলেন জীবনে আর ফুটবলে লাথি মারতে পারবেন না এডি হাউ। কিন্তু সারা জীবন স্রোতের বিপরীতে সংগ্রাম করে চলা এডি হাউ এতো সহজে দমে যাবেন? এদিকে ভালোবাসার এডিকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলো “চেরি” সমর্থকেরা। বোর্নমাউথ ক্লাব তখন অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে, সমর্থকেরা তাই “এডিশেয়ার” নামে তহবিল খুললো। উদ্দেশ্য ২১ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে পোর্টসমাউথ থেকে হাউকে কিনে আনা। অল্প সময়ের মধ্যেই জোগাড় হয়ে গেলো অর্থ, বাড়ি ফিরলেন যেন এডওয়ার্ড জন ফ্র্যাঙ্ক হাউ। যদিও বাঁ হাঁটু তাঁকে মাত্র তিন মৌসুমের জন্য ফুটবল খেলতে দিলো। মাত্র ২৯ বছর বয়সে চোটের কাছে হার মেনে বুটজোড়া তুলে রাখতে হলো। তবে এর আগেই তাঁর জীবনে ঘটে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মূল দলের খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই বোর্নমাউথের রিজার্ভ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে এডিকে। কে জানতো বোর্নমাউথ এএফসির শতবর্ষের ইতিহাস পাল্টে যাবে এই এক সিদ্ধান্তে!

eddie-howe-bournemouth-premier-league

শুরু হলো এডি হাউয়ের “ম্যানেজার” জীবন। রিজার্ভ দলের কোচিং সাথে মাঝে মাঝে মূল দলের কোচ কেভিন বন্ডের হয়ে স্কাউটিং – দ্রুতই সবকিছু শিখে নিতে হচ্ছিল হাউকে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে বরখাস্ত করা হলো বন্ডকে, চাকরি হারালেন হাউও। নতুন কোচ জিমি কুইন অবশ্য দায়িত্ব পেয়েই ডেকে নিলেন সমর্থকদের প্রিয় হাউকে, এবার তাঁর উপর ন্যস্ত করা হলো যুবদলের দায়িত্ব। ২ মাস পর ৩১ ডিসেম্বরে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চারদিকে নর্ববর্ষের জোর প্রস্তুতি চলছে এমন সময়ে বেজে উঠল এডি হাউয়ের ফোন। বোর্ড থেকে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি বোর্নমাউথের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দায়িত্ব নিতে চান কি না। কাঁপা কাঁপা গলায় হ্যাঁ বলে দিলেন হাউ। কিন্তু ক্লাবকে বাঁচানো যে মোটেও সহজ হবে না সেটা হাউয়ের চেয়ে ভালো কেউ জানতো না। ইংল্যান্ডের প্রথম চার বিভাগকে পেশাদার হিসেবে গণ্য করা হয়, বোর্নমাউথ সেই চার বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে নিচেরটি অর্থাৎ লিগ টু তে অবনমন শঙ্কায় ছিল। লিগ শুরুর আগেই অর্থনৈতিক দৈন্যদশা আর ঋণের পাহাড়ের কারণে বোর্নমাউথকে ১৭ পয়েন্টের জরিমানা করেছিল এফএ। হাউ যখন দায়িত্ব নিলেন তখন ২৪ দলের লিগে ২৩তম স্থানে ধুঁকছে বোর্নমাউথ। খেলোয়াড়-কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে বোর্ড, অবনমন হলে হয়তো ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। দায়িত্ব নিয়েও ক্লাবের ভাগ্য বদলাতে পারলেন না হাউ, রদারহ্যাম ও ডার্লিংটনের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বসলো বোর্নমাউথ। কিন্তু যা দেখার দেখে ফেলেছে বোর্ড, স্থায়ী কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো হাউকে। ১৯ জানুয়ারিতে দায়িত্ব পেলেন হাউ তখন ২৪তম স্থানে বোর্নমাউথ, ২৩ তম স্থানে থাকা গ্রিমসবি টাউনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে তাঁরা ( লিগ টু’তে শেষের দুটি দল অবনমিত হয়)। মধ্য-মার্চ পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ৮ জয় আর ৩ ড্র তুলে নিলো বোর্নমাউথ। পোর্ট ভেলের সাথে ঘরের মাঠে ড্রয়ের পর ড্রেসিংরুমে ফিরে বকেয়া বেতন পেলেন খেলোয়াড়েরা। ৪৬ ম্যাচের লিগ শেষে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করলো বোর্নমাউথ, ২২তম স্থানে থাকা চেস্টার সিটির চেয়ে যেটা ৯ পয়েন্ট। অথচ ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদেরকে বেতন দেওয়া হয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া লোন দিয়ে। পরের মৌসুমে আবার চমক, ব্রেট পিটম্যানের ২৬ গোলে চড়ে দ্বিতীয় হয়ে লিগ শেষ করল বোর্নমাউথ। প্রথম পূর্ণ মৌসুমেই দলকে তৃতীয় বিভাগে তুলে ফেললেন হাউ।

 

২০১০-১১ মৌসুমটাও ঠিকঠাক চলছিল বোর্নমাউথের জন্য, ২৬তম রাউন্ড পর্যন্তও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলো “চেরি”রা, কিন্তু ১৪ জানুয়ারি আকস্মিক ছন্দপতন। বার্নলির কোচের দায়িত্ব পেয়ে বোর্নমাউথ ছেড়ে গেলেন হাউ। তাঁর জায়গায় লী ব্র্যাডবেরি দলকে ৬ এর উপরে তুলতে পারলেন না। প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন প্রত্যাশী বার্নলি যথাক্রমে ৮ আর ১৩ স্থানে থাকলো হাউয়ের অধীনে। ওদিকে তৃতীয় বিভাগে একাদশতম স্থানে ২০১১-১২ মৌসুম শেষ করলো বোর্নমাউথ। ২০১২ সালের অক্টোবরে “ব্যক্তিগত কারণ” দেখিয়ে বার্নলির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন হাউ, ফিরলেন সেই ডিন কোর্টের (স্পনসরশিপ চুক্তির কারণে বর্তমান নাম ভাইটালিটি স্টেডিয়াম)। ২০১২-১৩ মৌসুমে আবার সেই ব্রেট পিটম্যান জ্বলে উঠলেন গুরুর সাহচর্যে, ২০ গোল করে দলকে দ্বিতীয় বিভাগের (চ্যাম্পিয়নশিপ) টিকিট পাইয়ে দিলেন। পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে দশম, বোর্নমাউথের স্বপ্নযাত্রায় আরেকটু ছেদ পড়লো। ২০১৪ এর গ্রীষ্মে ৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে কভেন্ট্রি সিটি থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ ক্যালাম উইলসনকে দলে ভেড়ালেন হাউ। লিগে ২০ গোল করে সবাইকে চমকে দিলেন উইলসন। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটা এলো ২০১৫ সালের ২রা মে তারিখে। সেদিন চার্ল্টনের মাঠে ৩-০ গোলে জিতে নিজেদের ১১৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে খেলার গৌরব অর্জন করলো বোর্নমাউথ। যাদুকর হাউয়ের স্পর্শে লুপ্তপ্রায় ক্লাবটি এখন দেশের বড় বড় ক্লাবের সাথে টক্কর দিবে। আনন্দে হতবিহ্বল সমর্থকেরা প্রাচীর টপকে মাঠে ঢুকে গেলেন, এমন মুহূর্ত তো জীবনে একবারই আসে, নাকি?

howe-cropped_1eo4x4mfoxyv11lcxk433a517k

টেলিভিশন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে বাকিটা সবারই জানা। প্রমোশন পেয়ে আসা বেশিরভাগ দলই যেখানে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে আর বিশালদেহী টার্গেটম্যানের উদ্দেশ্যে একের পর এক লং বল ছুঁড়ে দেয় হাউ সেখানে ব্যতিক্রম। আক্রমণাত্মক, পাসিং ফুটবল খেলে সবার দ্বিতীয় প্রিয় দল হয়ে উঠল বোর্নমাউথ। প্রিমিয়ার লিগের তুলনায় ডিন কোর্ট একেবারেই ছোট্ট স্টেডিয়াম, মাত্র ১১,৩৬৪ জন দর্শক একসাথে খেলা দেখতে পারে সেখানে। প্রথম মৌসুমে ১৬তম স্থানে থেকে কোনোক্রমে অবনমন এড়ানো, পরের মৌসুমে জশ কিংয়ের ১৬ গোলে চড়ে নবম স্থানে থাকা। রুশ ব্যবসায়ী ম্যাক্স ডেনিমের অধীনে ট্রান্সফার মার্কেটেও ছাপ ফেলছিল পুঁচকে বোর্নমাউথ। ২০ মিলিয়নের কাছাকাছি অঙ্কে সোলাঙ্কি, অ্যাকে আর ১৫ মিলিয়নের বিনিময়ে আইবকে ডিন কোর্টে নিয়ে এলেন ডেনিম। ডাচ মিডফিল্ডার জেফারসন লারমাকে পেতে তো ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডকে বিদায় বলে দিলো বোর্নমাউথ। বেহিসেবি খরচই কাল হলো বলা যায় - লারমা প্রত্যাশা মেটাতে পারলেন না, আইব আর সোলাঙ্কিকে দেখে তো মনে হয়েছে তাঁরা ফুটবলারের ছদ্মবেশ নিয়ে আছেন। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে যথাক্রমে ১২ ও ১৪তম স্থানে থেকে লীগ শেষ করল বোর্নমাউথ। হাউ “ম্যানেজার অফ দ্য মান্থ” এর পুরষ্কার জিতে ফেললেন তিন-তিনবার। উইলসন-ব্রুক্স-ফ্রেজাররা কিন্তু ঠিকই মুগ্ধ করে চলেছিলেন দর্শকদেরকে। ২০১৯-২০ মৌসুমে এসে যেন সেই জাদুকরের হাতের জাদু ফুরিয়ে গেলো। দারুণ প্রতিভাবান ওয়েলশম্যান ব্রুক্স চোট নিয়ে বাইরে থাকলেন, মাথায় আর্সেনালে ট্রান্সফার ঘুরতে থাকা ফ্রেজার অপেশাদারি মনোভাব দেখিয়ে জঘন্য খেললেন, উইলসন-কিংরাও যেন ফুটবল খেলা বেমালুম ভুলে গেলেন। মৌসুমজুড়ে রক্ষণকে দেখালো ছন্নছাড়া, লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৫ গোল খেলো বোর্নমাউথ। একাই চেষ্টা করে গেলেন গোলরক্ষন অ্যারন র‍্যামসডেল, কিন্তু তাঁকে সতীর্থরা সঙ্গ দিতে পারলো কই? ফলে ২৬শে জুলাই এভারটনের মাঠে ৩-১ গোলে জেতার পরেও এক পয়েন্টের জন্য অবনমিত হয়ে গেলো বোর্নমাউথ। এক সপ্তাহ পর পারস্পরিক সমঝোতায় দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন এডি হাউ।

 

ইংল্যান্ডের প্রথম বিভাগে টিকে থাকা যতটা কঠিন, তারচেয়েও কঠিন অবনমিত হবার পর ফিরে আসা। উইলসন, কিং কিংবা ব্রুকসদেরকে হয়তো অন্য ক্লাবের কাছে বিক্রি করে দিতে হবে বোর্নমাউথকে, দলবদলেও আর বেশি টাকা খরচ করতে পারবে না আপাতত। হাউকে হয়তো নিয়োগ দেবে প্রিমিয়ার লিগের বড় কোনো ক্লাব। এমনও হতে পারে আগামী ২০-৩০ বছরে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ ফিরবে না ডিন কোর্টে। আজ থেকে ৩০ বছর পরের কোনোদিনে হয়তো নাতি-নাতনিকে নিয়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের শহরটার সমুদ্রপাড়ে বেড়াতে যাবেন কোনো বৃদ্ধ। ইংলিশ চ্যানেলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নোনা বাতাসের গন্ধ নিতে নিতে নরম রোদে গা এলিয়ে দেবেন। নতুন প্রজন্মকে সেই সময়গুলোর গল্প শোনাবেন তিনি, “ দাদু জানো, আমাদের একজন এডি হাউ ছিলেন।“